Sunday, 16 April 2017

বাবু রাজনীতি উবাচ

বাবু রাজনীতি উবাচ: 

সমর সেন যে ‘বাবু বৃত্তান্ত’ লিখে গেছেন সেই ধরণের বৌদ্ধিক উপসনা আমার নেই। ভারত নামক উন্নয়নশীল দেশটিতে আধুনিক গণতন্ত্রের উন্নতি যত হচ্ছে ততই কেন জানি না ‘বাবু’দের দল হারিয়ে যাচ্ছে। উদাহরণ কিছুদিন আগে উত্তর প্রদেশ, পঞ্জাব সহ পাঁচ রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন। তথাকথিত যেসব ‘বাবু’ দের রসায়ন আমাদের সামনে তুলে ধরা হয়েছিল সেই সাম্রাজ্য দখল করলেন গেরুয়া পোশাক পরিহিত স্বনামঅধন্য এক ব্যক্তি। ‘বাবু’ রাজনীতির দলে ব্যতিক্রম অবশ্যই। ‘বাবু’ সমাজেও উল্লেখযোগ্য এক ব্যতিক্রম। যোগী আদিত্যনাথ যে উত্তর প্রদেশ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হচ্ছেন এই খবর তাঁর পূর্বাশ্রম পরিবারও জানত না। সংবাদ মাধ্যম সূত্রের খবর, উত্তর প্রদেশ রাজ্যের বিজেপি নামক দলটি একটি ব্রাহ্মণশ্রেণী দ্বারা নিয়ন্ত্রিত দল। সেই সর্বভারতীয় দলের  বর্তমান মুখ্যমন্ত্রীর বোন জমিতে খেতির কাজ করতে করতে মোবাইলে খবর পায় তার দাদা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হচ্ছেন। ভারতীয় বাবু রাজনীতির অবসান এখান থেকে শুরু এমনটা বলা যাবে না। কারণ বিজেপি দলের এর আগে আমরা কল্যাণ সিংহ, উমা ভারতীর মত দলিত মুখ্যমন্ত্রী দেখেছি। বিজেপি তথা দলের পারবারিক সময়কাল বর্তমানে অনেকটা বদলে গেছে। এবং বদলে যেতে চাইছে। যদিও সামন্ত ভারতের হাত ধরেই সেই সময়ের ‘বাবু রাজনীতির’ স্বরূপ আমরা দেখেছি। সম্প্রতি উত্তর প্রদেশের মত রাজ্যের দায়িত্ব নেওয়ার পর সেই রাজ্যের পশু খাদ্য নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য স্লটার হাউসগুলি নিষিদ্ধ ঘোষণা করে যোগী আদিত্যনাথের সরকার। নিষিদ্ধ ঘোষণা করেই থেমে থাকেনি রাজ্য সরকার। সংবাদ মাধ্যম সূত্রের খবর, লাইসেন্সহীন মাংস কাটার কারখানাগুলি বন্ধ করার অভিযানও শুরু হয়। সেই অভিযানে কিছু বৈধ স্লটার হাউসও বন্ধ করা হয়। উত্তর প্রদেশের মাংস ব্যবসায়ীরা আন্দোলনে নামেন। পরে আদালতে মামলা হয়। এবং একটি মীমাংসার পথ আমরা দেখতে পাই।
প্রগতির রথের চাকা বিশ্বায়ন উত্তর ভারতে থেমে থাকতে পারে না। উত্তর প্রদেশের গেরুয়া বসন পড়া মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ দলের এবং দলীয় পরিবারের নিয়ন্ত্রিত সংস্কৃতির উর্ধে উঠে ঘোষণা করেছেন, রাজ্যে নার্সারি স্তর থেকে ইংরেজি পড়ানো শুরু করতে হবে। এবং দশম শ্রেণী থেকে বিভিন্ন বিদেশী ভাষার সঙ্গেও পরিচিত হবে রাজ্যের পড়ুয়ারা। মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ বলেছেন, ‘’শিক্ষায় ঐতিহ্য ও আধুনিকতার মেলবন্ধন প্রয়োজন। আমরা এমন একটা শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলব যা জাতীয়তাবাদের প্রচার করবে ঠিকই, কিন্তু আধুনিক উপায়ে।‘’        
বাবু রাজনীতির অবসান কবে কোথা থেকে শুরু সেটা ইতিহাসের বিষয়। কিন্তু বিজেপি নামক দলটি ২০১৪ সালে যে ব্যক্তিটিকে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব দিলেন তিনি ব্রাহ্মণ নন। এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও ‘বাবু রাজনীতির’ মূলে আঘাত করেই প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। খুব সম্ভবত পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচনেও ব্রাহ্মণ, কায়স্থ, ক্ষত্রিয় বা উচ্চ বর্ণের সম্প্রদায় থেকে কেউ আসছেন না। ‘বাবু রাজনীতির’ মূলে আঘাত করেই এমন একজন সর্বসম্মত রাষ্ট্রপতি হতে পারেন, সেটা আম ভারতীয়দের কাছেও চমক হবে সম্ভবত। উত্তর প্রদেশ ভোটের সময় জাত-পাত, ধর্ম যেভাবে আসে ২০১৭ সালের বিধানসভা নির্বাচনে সেভাবেই এসছে। তবে সেগুলি ‘বাবু রাজনীতির’ খোলস থেকে মুক্ত হয়ে দলিতের ভাষায় দলিতের ঘরে পৌঁছে দিতে সক্ষম হয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ। দুজনেই সুকৌশলে কখনও ভারতীয় প্রাচীন সভ্যতার গতানুগতিকতা ভেঙ্গে বেরিয়ে আসতে চেয়েছেন। আবার কখনও বিংশ শতাব্দীর নব্বইয়ের দশকের ‘বাবু রাজনীতিকে’ উস্কে দিয়েছেন। নরেন্দ্র মোদী বলেছিলেন, মুখ্যমন্ত্রী অখিলেশ যাদবের সমাজ বাদী সরকার কবরস্থানগুলির সংস্কার করলেও শ্মশান সংস্কারের কাজ ফেলে রেখেছেন।
কংগ্রেসের সহ সভাপতি রাহুল গাঁধি উত্তর প্রদেশ বিধানসভা ভোটের অনেক আগে থেকেই কংগ্রেসের তথাকথিত রাজনৈতিক অবস্থান ভেঙ্গে বেরিয়ে আসতে চেয়েছেন। ২০১৪ সাল থেকেই তিনি দলিত পরিবারের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক গড়ে তুলতে চেয়েছেন এবং সক্ষমও হয়েছেন। কংগ্রেসের ধর্মনিরপেক্ষতা এবং প্রগতিধারার রাজনীতি একশ্রেণীর ‘বাবু সম্প্রদায়’-এর কাছে গ্রহণযোগ্য ছিল না। তাঁরা বিভ্রান্ত ছিলেন। উত্তর প্রদেশ বিধানসভা নির্বাচনে (২০১৭) ২৩ মার্চ আমেঠীর রামলীলা ময়দান থেকে সমস্ত দেশের মানুষের কাছে রাহুল গাঁধি শতাব্দী প্রাচীন কংগ্রেস দলের বর্তমান অবস্থান ঘোষণা করলেন। তিনি বললেন, ‘’তুমি হিন্দুও নও, মুসলিম নও, তুমি মানুষের সন্তান এবং তুমি শৈশব থেকে বড় হয়ে একজন পূর্ণাঙ্গ মানুষই হবে।‘’ কংগ্রেসের সহ সভাপতি আরও ঘোষণা করলেন, ‘’ঘৃণার রাজনীতির বিরুদ্ধে এটাই আমার বর্তমান বার্তা।‘’
একবিংশ শতাব্দীর যুব প্রতিনিধি হিসাবে রাহুল গাঁধি ভোটব্যঙ্কের রাজনীতি আর করতে চাইছেন না। যে বিতর্ক বার বার কংগ্রেস নামক ১৩০ বছরের দলে দেখা দিয়েছে। কংগ্রেস কোন ভোট ব্যঙ্ককে পরিচর্যা করবে? শাহবাণু মামলা থেকে রাম মন্দিরের শিলান্যাস দু’টি বিষয় নিয়েই কংগ্রেসের মধ্যে দোলাচল ছিল। রাজীব গাঁধির সময় থেকে কংগ্রেস নামক দলটি ভারতীয় রাজনীতির মেরুকরণের এই বদ্ধজলা থেকে বেরিয়ে আসতে চাইছিল। সংগঠনে রাজনৈতিক অবস্থান সঠিকভাবে মানুষের কাছে না পৌঁছতে পারার ব্যর্থতা কংগ্রেস নেতৃত্বের উপর বর্তায়। সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়েছে বিজেপি। ২০১৪ সালের আধুনিক গণতন্ত্র এবং উন্নয়নের মত বিষয়কে মূল এজেন্ডা করে এন ডিএ সরকার বিজেপির নেতৃত্ব কিছুটা আত্মতুষ্টিতে রয়েছে। এটা খুবই স্বাভাবিক। একসময়ে ভারতীয় সংসদে মাত্র দু’জন সাংসদের দল আজ শাখা প্রশাখায় ভারতের অন্যতম বৃহত্তর দল। সেই দলের নেতৃত্বে রয়েছেন নরেন্দ্র মোদীর মত নেতা। বিশ্বায়নের ধারাবাহিকতায় ইউরোপ আমেরিকার সঙ্গে ছন্দ মিলিয়েই এশিয়ার দেশগুলি উন্নয়নের অংশীদার হতে চাইছে। ভারত সহ ভারতীয় উপমহাদেশের আর্থসামাজিক চরিত্রের বদল দেখলে আমরা বুঝতে পারব। এশিয়ার ওই সব দেশে উন্নয়ন যেমন হচ্ছে দুরনীতিও পাল্লা দিয়ে বেড়েছে। এশিয়া নামক মহাদেশটির বিভিন্ন দেশে দুর্নীতি মহাদুর্নীতির মত আখ্যান মানুষ অনেকবার শুনেছে। ২০১৬-২০১৭ আর্থিক বছরে এশিয়ার ১৫টি দেশের ৯০০ মিলিয়ন মানুষ ঘুষ দিয়েছেন। আন্তর্জাতিক সংস্থা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশন্যাল ১৫টি দেশের ২২,০০০ মানুষের মধ্যে সমীক্ষা করে এই তথ্য জানতে পেরেছে। সূত্রঃ এএফপি।
এশিয়ার বিভিন্ন দেশের কত শতাংশ মানুষ দুর্নীতির কথা বলেছেন? সংবাদ সংস্থা এএফপি সূত্রে জানতে পারছি চিনের ৭৩ শতাংশ, ইন্দোনেশিয়া ৬৫ শতাংশ, মালয়েশিয়া ৫৯ শতাংশ, ভিয়েতনাম ৫৬ শতাংশ,  দক্ষিণ কোরিয়া ৫০ শতাংশ, হংকং ৪৬ শতাংশ, ভারত ৪১ শতাংশ, কম্বোডিয়া ৩৫ শতাংশ, পাকিস্তান ৩৫ শতাংশ, অস্ট্রেলিয়া ৩৪ শতাংশ, জাপান ২৮ শতাংশ, তাইওয়ান ২৬ শতাংশ, মায়ানমার ২২ শতাংশ, শ্রীলঙ্কা ২১ শতাংশ, থাইল্যান্ড ১৪ শতাংশ। সূত্রের খবর, ভারতে ‘সেন্ট্রাল ভিজিলেন্স কমিশন’-এর বাৎসরিক রিপোর্ট বলছে, ২০১৫- ২০১৬ সালের আর্থিক বছরে দুর্নীতি বিষয়ক অভিযোগ জমা পড়েছে ২৯,৮৩৮টি এবং ২০১৬-২০১৭ সালের অভিযোগ ৪৯,৮৪৭টি। সিভিসি রিপোর্ট আরও বলছে, রেলের দুর্নীতি গত আর্থিক বছরে ৬৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তিন বছর হয়ে গেল দায়িত্বে এসেছেন। দেশের উন্নয়নের জন্য একের পর এক কর্মসূচী নিচ্ছেন। ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’, ‘স্টার্টআপ প্রকল্প’, ‘স্বচ্ছ ভারত’, ‘জন ধন প্রকল্প’, ‘নোটবন্দি’ ইত্যাদি। এইসব প্রকল্পের কাজ শুরু হলেও দেশের বিনিয়োগ খুব কিছু উল্লেখযোগ্য বলা যাবে কি? সম্প্রতি রিজার্ভব্যঙ্ক প্রকাশিত তথ্য বলছে ভারতে ২০১৬-২০১৭ আর্থিক বছরে ঋণের পরিমাণ বেড়েছে মাত্র ৫.১ শতাংশ। সংবাদ মাধ্যম সূত্রে খবর, কংগ্রেসের নেতা জয়রাম রমেশ এই প্রসঙ্গে বলেন, ‘’শুধু ব্যঙ্কের ঋণ বৃদ্ধির হার যে এত কম, তা নয়। ২০১৬-২০১৭ আর্থিক বছরে বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রগুলির ক্ষমতার তুলনায় উৎপাদনের হারও গত ১৫ বছরে সবচেয়ে কম। বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলির ক্ষমতার তুলনায় মাত্র ৬০ শতাংশ উৎপাদন হয়েছে। এ থেকেও স্পষ্ট কারখানা তৈরি হচ্ছে না, শিল্পও হচ্ছে না। তাই বিদ্যুতের চাহিদাও বাড়ছে না।‘’ ভারতীয় গণতন্ত্রে উন্নত দুনিয়ার মত বিরোধীদের গঠনমূলক সমালোচনা শাসক দল মেনে নিতে চায় না অথবা পারে না। গঠনমূলক কলমচির দায়িত্বও আমাদের নিতে হবে। বিজেপি বলতে পারে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী শিল্পের জন্য এবং বিনিয়োগের জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করছেন। কিন্তু বিরোধীরা তথ্য তুলে ধরিয়ে দিচ্ছেন সরকারের দুর্বলতা। সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরি বলেছেন, ‘’ঋণ না হলে লগ্নী হবে না, শিল্প হবে না, নতুন কর্ম সংস্থানও হবে না।‘’ জয়রাম রমেশ শ্রম মন্ত্রকের হিসেব উল্লেখ করে সংবাদ মাধ্যমকে বলেছেন, শ্রম মন্ত্রকের হিসেবই বলছে, মোদী সরকারের প্রথম দু’বছরে সংগঠিত ক্ষেত্রে মাত্র ৪.৪ লক্ষ নতুন চাকরি তৈরি হয়েছে। দ্বিতীয় ইউপিএ সরকারের প্রথম দু’বছরে সেই তুলনায় ২১ লক্ষ কর্ম সংস্থান হয়েছিল।                          
দুর্নীতির বহর যতই বাড়ুক সময়ের দাবি মেনে কখন কোন আড়াল থেকে একদল অন্য ধারার যুব নেতৃত্ব সামনে এগিয়ে আসছেন। গঠনমূলক রাজনীতির ভাষা চেনানোর দায়িত্ব নিয়ে। রোহিত ভেমুলার মত ছাত্র নেতার মৃত্যুর পরেও ছায়া রেখে গেছে নতুন আলো, নতুন ভাষায় কথা বলার জন্য। রোহিত ভেমুলার ছায়াপথ ধরে এগিয়ে এসছেন, কানাহাইয়া কুমার, উমর খালেদ। এবং ধূমকেতুর মত উদয় হয়ে আবার আড়ালে চলে গেছেন গুরমেহের কৌর। ভারতীয় সেনার কন্যা গুরমেহের। তার বাবা কার্গিল যুদ্ধে মারা যান। শহীদ ক্যাপ্টেন মনদীপ সিংহের মেয়ে গুরমেহের দিল্লির লেডি শ্রীরাম কলেজের ছাত্রী। গুরমেহেরের একটি ট্যুইট নিয়ে সারা দেশে তোলপাড় শুরু হয়। কংগ্রেসের সহ সভাপতি রাহুল গাঁধি বলেন, ‘’যখনই অসহিষ্ণুতা তীব্র আকার ধারণ করে, তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে গুরমেহের কৌররা উঠে আসেন।‘’ ‘বাবু রাজনীতি’ আবার একবার প্রতিনিধিত্ব হারায়। সেই সূত্রায়ন মানতে চাইছেন কংগ্রেসের একদল নতুন প্রজন্মের নেতা। উচ্চ শিক্ষিত, ধনিক শ্রেণীর প্রাধান্য ছিল এমন সব প্রতিনিধি নিয়ে গড়ে ওঠা দলটির খোল নলচে বদলে ফেলতে চাইছেন রাহুল গাঁধির নেতৃত্বে কংগ্রেসের একদল যুব নেতা।
এসবের পরেও বিজেপি দলের আড়ে বহরে বেড়ে চলেছে কি করে? পশ্চিমবঙ্গ নামক রাজ্যে কিছুদিন আগে রামনবমী এবং হনুমান জয়ন্তী উপলক্ষে সারা রাজ্যে বিজেপি সশস্ত্র মিছিল করেছে। এই মিছিলকে কেন্দ্র করে রাজ্যের শাসকদল, সিপিএম এবং কংগ্রেস বিভিন্ন ধরণের সমালোচনা করলেও বিজেপির বেড়ে ওঠাকে আটকাতে পারছে না। সেই সার সত্য আমাদের মেনে নিতে হচ্ছে। আমরা উল্লেখ করতে পারি সারা দেশে যে কয়েকটি জায়গায় উপ নির্বাচন হয়েছে সেইসব ক্ষেত্রে বিজেপি এবং কংগ্রেস স্মানে স্মানে টক্কর দিয়ে লড়েছে। এই নির্বাচন প্রসঙ্গে কংগ্রেসের প্রবীণ নেতা অধ্যাপক ওমপ্রকাশ মিশ্র বলেছেন, ‘’By election results overall have gone in favour of parties who had won it last time except that AAP candidate in Delhi's Rajouri Garden is placed third. Congress here has increased its vote percentage significantly. BJP has won 1 Rajastan, 1 Himachal and 1 Assam seats. Congress retains 2 Karnataka seats. Jharkhand seat has gone in favour of opposition JMM( supported by Congress) candidate. While BJP has retained 1 Madhya Prdesh seat, Congress has a slight lead over BJP in Ater Assembly seat. Counting is still in progress. Last time it was won by Congress and a defeat here would be a setback. West Bengal seat has gone in favour of TMC but significantly it is the BJP that has captured the second place. The CPI nominee is a distant third and Congress nominee rejected completely. Both BJP and Congress vote percentage in Assam's Dhemaji seat has gone up, 10 percentage point for BJP and 14 percentage point for Congress as compared to last year's Assembly result in this constituency. Not much of a 'revolution' in the results except that Congress is back into the reckoning in Delhi, retains its fortune in Karnataka in a convincing way, BJP still has sway over in Rajasthan and Madhya Pradesh and the Opposition is gaining traction in Jharkhand. West Bengal- TMC is entrenched in a strong way in its citadel of Purba Midnapore and BJP able to make a point.’’
এই নির্বাচন প্রসঙ্গে সংবাদ সংস্থা এনডিটিভির বক্তব্য আমরা দেখে নিতে চাইছি।
 ‘’In by-elections held for 10 assembly seats in eight states, the BJP is in position to win six. It had held three of these seats and is gaining three from other parties, including Delhi's Rajouri Garden, where last time's winner Aam Aadmi Party has lost its deposit ahead of key civic elections. In Karnataka, the Congress has won both Nanjangud and Gundlupet, seats it held. In Jammu and Kashmir's Srinagar, where fresh elections were ordered in 38 polling booths after violence on Sunday, less than one per cent have turned up to vote.’’ NDTV 
আদিবাসী দলিত আন্দোলনের বিশিষ্ট কর্মী জেভিয়ার ডায়াস বলছেন,   
‘’If BJP looses #Littipara Assembly seat it will be an insult to the BJP propaganda machine. Modi himself went to Sahibganj the adjourning District to campaign. Thousands of people from Littipara were brought to Sahibganj for his darshan. Cash was flowing like water. My friend who was working for the JMM candidate told me that BJP workers are now having so much money that for at least one year they need not find employment.’’  
এমত অবস্থায় পশ্চিমবঙ্গে কংগ্রেস দলীয় প্রসারের যে জন্য কি কর্মসূচী নিয়েছে সেটা রাজ্যবাসীর কাছে খুব কিছু পরিষ্কার নয়। কিন্তু কংগ্রেসের কিছু ডেডিকেটেড কর্মী গত এক বছর ধরে রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় স্বাধীনতা আন্দলনের বীর যোদ্ধাদের মনে রেখে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, সেমিনার করছেন। বিষয়টি অত্যন্ত উল্লেখযোগ্য আজকের বাস্তবতায়। অতীতকে সামনে আনতে না পারলে কংগ্রেস তার উজ্জ্বল দিকগুলি আজকের প্রজন্মের কাছে কতটা তুলে ধরতে পারবে? ভারতীয় স্বাধীনতার জন্য যেসব ভারতীয় শহীদ হয়েছেন, সেই বীর যোদ্ধাদের ঋণ কোনও মূল্যেই শোধ করা সম্ভব নয়। বর্তমান প্রজন্মের কাছে প্রতি মুহূর্তে স্বদেশী আন্দোলনের ইতিহাস পৌঁছে দেওয়াই একমাত্র সামাজিক দায়বদ্ধতা। সেই দায়িত্ব এবং দায়বদ্ধতা মনে রেখে ‘আগস্ট বিপ্লব উদযাপন কমিটি’ ৯ অগস্ট, ২০১৬ থেকে সারা বাংলা জুড়ে বিভিন্ন জেলায় স্বাধীনতা সংগ্রামীদের মনে রেখে একটার পর একটা অনুষ্ঠান আয়োজন করে চলেছে।
সারা বছর ব্যপী এই সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের শুরু হয়েছিল ২০১৬ সালের ৯ অগস্ট। প্রবীণ কংগ্রেস নেতা এবং প্রাক্তণ বিধায়ক দেবপ্রসাদ রায়ের নেতৃত্বে জাতীয়তাবাদী ইতিহাসের ট্যবলোরর জয় যাত্রা শুরু হয়েছে। শেষ হবে ৯ই আগস্ট, ২০১৭ সালে কলকাতায় কেন্দ্রীয় অনুষ্ঠানে।
২০১৬ সালঃ সেপ্টেম্বরে হয়েছে তমলুকে। শহীদ মাতঙ্গিনী হাজরাকে মনে রেখে। অক্টোবরে কলকাতায় যতীন দাস পার্কে। শহীদ যতীন দাসের স্মরণে। কোহিনূর সেন বরাটের নৃত্যগোষ্ঠী স্বদেশী গানের কোরিওগ্রাফি করে। নভেম্বর মাসে খিদিরপুরে পাইপ রোডে অনুষ্ঠান হয়। শহীদ বিনয়-বাদল-দীনেশকে স্মরণ করে। এই তিন দিকপাল স্বদেশী মহাকরণ অভিযানের আগের রাতটা কাটিয়েছিলেন খিদিরপুরের এই পাইপ রোডে।  ডিসেম্বর মাসে শহীদ কানাইলাল দত্তকে স্মরণে রেখে চন্দন নগরে অনুষ্ঠান হয়। ২০১৭ সালঃ জানুয়ারি মাসে মাস্টারদা সূর্য সেনকে মনে রেখে অনুষ্ঠান হয় খড়দহে। ফেব্রুয়ারি মাসে দারজিলিং পাহাড়ে ভবানী ভট্টাচার্যকে মনে রেখে অনুষ্ঠান হয়। মার্চ মাসে গোপীনাথ সাহাকে মনে রেখে শ্রীরামপুরে অনুষ্ঠান করে ‘আগস্ট বিপ্লব উদযাপন কমিটি’। এপ্রিল মাসে শহীদ মঙ্গল পান্ডেকে মনে রেখে অনুষ্ঠান হয়েছে ব্যারাকপুরে মঙ্গল পান্ডে পার্কে। মে মাসে কৃষ্ণনগর শহরে অনুষ্ঠান শহীদ বসন্ত বিশ্বাসকে মনে রেখে। জুন মাসে অনুষ্ঠান আছে জলপাইগুড়ি শহরে শহীদ বীরেন্দ্র দত্ত গুপ্তকে মনে রেখে। এবং জুলাই মাসে দক্ষিণ ২৪ পরগণা জেলার বোড়ালে ‘আগস্ট উদযাপন কমিটি’র অনুষ্ঠান বিশ্ব বরেণ্য বিঞ্জানী এবং ভারতীয় স্বাধীনতা আন্দোলনের একনিষ্ঠ কর্মী সত্যেন্দ্র বসুকে স্মরণ করে।              
বিস্মৃত বাঙালি জাতির হাতে হেচকা টানে মনে করিয়ে দিতে হয়। বাংলার এবং বাঙালির ভারতীয় স্বাধীনতা আন্দলোলনের শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিত্বদের। ‘আগস্ট বিপ্লব উদযাপন কমিটি-এর প্রচার পত্রে লেখা হয়েছিল, ‘’ঋণ শোধ করা সম্ভব নয়। তবে তর্পণ করার প্রচেষ্টায় আসুন আগামী ৯ই আগস্ট, ২০১৬ বেলা ১টায় ইউনিভার্সিটি ইন্সটিটিউট হলে একত্রিত হয়ে জাতীয় স্তরের ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে কষ্টার্জিত স্বাধীনতাকে রক্ষার শপথ গ্রহণ করি।‘’
এই বাংলা তথা ভারতে আজ বড় প্রয়োজন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে। তাঁর ‘গোরা’ উপন্যাসে তিনি গোরাকে আমাদের উপহার দিয়েছেন উদারতার প্রতীক হিসাবে। ‘গোরা’ উপন্যাস আমরা প্রায় সবাই পড়েছি। এই উপন্যাসে স্বদেশপ্রেম তথা ভারতীয় সমাজ ব্যবস্থার যে সামাজিক ছবি সেদিন বিশ্ব বরেণ্য লেখক আমাদের সামনে হাজির করেছিলেন সেই চির সত্যের সন্ধান আমি আজও করি। গোরা একদিন অনুভব করেছিল স্বদেশপ্রেম যখন আমাদের সামনে স্বভাবজাতভাবে দেখা দেবে, তখন, ‘সে আমার ধণপ্রাণ, আমার অস্থিমজ্জা, রক্ত, আমার আকাশ-আলোক, আমার সমস্তই অনায়াসে আকর্ষণ করে নিতে পারবে।’ গোরার কাছে তার তৎকালীন স্বদেশের সেই সত্যমূর্তি যে কী আশ্চর্য, অপরূপ, কী সুনিশ্চিত, সুগোচর, তার আনন্দ, তার বেদনা যে কী প্রচন্ড প্রবল হয়ে এসেছিল। আমার অনুভবে আজও ‘গোরা’ আমাদের পথ চিনতে সাহায্য করতে পারে। পশ্চিমবঙ্গে ‘বাবু রাজনীতি’-এর দিন অবসান হয়েছে অনেক অনেকদিন আগেই। খুব সম্ভবত পথে নেমে আর্থরাজনৈতিক এবং আর্থসংস্কৃতির নতুন ভাষায় তরুণ প্রজন্মকে দায়িত্ব দিতে হবে। ‘এসো হে বৈশাখ এসো এসো।’             


Tuesday, 11 April 2017

চিনব বললেই কি?

চিনব বললেই কি? 

পা টেনে টেনে যাব বললেই কি যাওয়া যায়?
চিনব বললেই কি চিনে চিনে চলা যায়?
সাদা আতপ চাল আর ঘি দিয়ে ভাত
যেদিন প্রথম খেলাম। নিয়ামিষ তরকারি ছিল,
সুস্বাদু যেন স্বর্গের অমৃত। ‘কিরে আর এক গ্রাস দিমু?’
সাদা থান পড়ে দিদিমার প্রশ্ন এবং প্রশ্রয়!
সাদা থান কাপড়, সাদা আতপ চালের ভাত,
নিরামিষ তরকারি। সাদা সিঁথি। ধব ধবে সাদা শনের মত
একমাথা চুল ছিল আমার দিদিমার।
জানতাম দাদু স্বর্গের অমৃত সফরে গেছেন।
কুচ কুচে কালো বেড়ালটাও বসে থাকত। 
হেথায় আরও একজন ছিলেন কালো চুল, সাদা থান, সাদা সিঁথি
আমার মাসিমা। বাল বিধবা ছিলেন তিনি।
শেষ বসন্তে এবং গ্রীষ্মের প্রথম প্রহরে ‘কাসুন্দি’
তৈরি হবে। দিদিমা, এবং নোয়া মাসি ফ্যাকাসে চোখে
‘বইয়া থাকেন’। সধবার দল আমার তিন মামিমা
স্নান করে, পুজো সেরে রোদে ভেজানো গরম জলে.........
সরষে বাটা গুলে ‘কাসুন্দি’ করছেন।
হিন্দু ব্রাহ্মণ বাড়ির নিয়ম ঐতিহ্যের
সাতদন্ডি পৈতের উপাচার সাজিয়ে!    
কালো বেড়ালটা সরষের তীব্র ঝাঁঝে
নাকের উপর শুর তুলে ঘোলাটে চোখে দূর পাশে গিয়ে
শরীর এলিয়ে দিল। আজ নিরামিষ।
আমিষ সমাজ তুমি আর কতদূরে?  

        

Thursday, 6 April 2017

বৈশাখ বশিতা

বৈশাখ বশিতা:

এবছর শীত ‘যেতে পারি কিন্তু কেন যাব’ বলে থেকে গেল কিছুদিন। ‘বসন্ত দূত’ কুহু রবে দিকচিহ্ন মেপে চলে গেছে। এমনটা কথা ছিল না। তবু চলে যায়। প্রকৃতির খামখেয়ালির সঙ্গে মানানসই করে এপাড়া ওপাড়ায় থাকলেও। সময় কি বুঝতে পারে না ওরা? তাই হবে হয়ত। বসন্তের প্রখরতায় শীত ছিল। অনুভবে তুমিও ছিলে এবছর। আরও কত বছর কত দিন থাকবে তুমি? চেনা বাউলের একতারায়। অচেনা বৈশাখের খেজুর পাটিতে? তাল পাতার পাখার হাওয়ায় হাওয়ায় লাগে যখন দোল। তুমি থেক সব সময় আমার হয়ে আমার পাশে। তাপ-উত্তাপ না থাকলে মানব ধর্ম মানবতা চিনবে কোন মন্ত্রে? শীতের প্রখরতায় রুদ্র উত্তাপ দিতে চায়নি এই সেদিনের সকাল দুপুরে। অথবা দিতে পারেনি। তপনায়ন যদি চোখ নত করে বিনম্র ভঙ্গিমায় চৈত্রের সময়কালকে ভ্রুকুটি করে, তবে বসন্তের রানী অভিমান করে অভিসারে যেতে চায়কি কোনও দিন?  আজ আবার কুহু কলরবে শীত শেষের বেলা অনুভব হচ্ছে। ‘বসন্ত বৌরি’ ফিরে যায়নি। প্রখর গ্রীষ্মের আহ্বানকে অচেনা লাগেনি ওদের। ওরা আজও প্রেম চেনে, ভালোবাসা চেনে। বৈভবে আছে ওরা। সূর্য তুমি উত্তাপ দাও ওরা তোমার উত্তপ্ত আমন্ত্রণ সাদরে গ্রহণ করবে। সূর্য ভালো থেক এই বসন্তের অপরাহ্ণ বেলায়। আকাশে, গাছে দূর দিগন্ত চরাচরে ওরা দুই ভিন্ন প্রজাতির পাখি সখা হয়ে ছিল। আজও সখা হয়ে থাকে। ওরা পারে আমরা পারি না। জলবায়ু পরিবর্তনকে ‘বৌ কথা কও’, ‘চোখ গেল’ বা পিঁউ কাঁহা’, পুচ্ছের নীচে লাল আর মাথায় ঝুঁটি নিয়ে বুলবুলি, ঘুঘু, বসন্তের দূতের মতই বৈশাখকে আমন্ত্রণ করে। আমরা পারি না। এই বাংলার গর্ব ‘বাংলা নববর্ষ’ আজ কি জৌলুস হারিয়ে ফেলছে?
মন টানে সত্তর আশির দশকে। শৈশব কৈশোর পেরনো স্মৃতি রুদ্রতপ্ত ঘর্মাক্ত সকাল সন্ধ্যের ‘নষ্টালজিয়া’ হেচকা টান দেয়। গ্রাম, প্রত্যন্ত গ্রাম, গঞ্জ, শহর। বিভক্ত বাংলার প্রাচুর্য দেখেছি ছোট ছোট দোকানে। বিভিন্ন ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানে, দোকানে মাঙ্গলিক সুতোয় বাঁধা আমের পাতা। সেই পাতায় সিঁদুর লাগানো। দোকানের দরজার চৌকাঠে, বাড়ির দেওয়ালে, চৌকাঠে সিঁদুর, হলুদ দিয়ে আঁকা মাঙ্গলিক চিহ্ন। ধর্ম আমার যাই হোক সেদিন আমার শ্লোগান ‘শুভ নববর্ষ’। লেটার প্রেসে ছাপা ‘পোস্ট কার্ড’ বা আমন্ত্রণপত্র আম বাঙালি, আপেল বাঙালির বাড়ি পৌঁছে যেত। তারপর সকাল থেকে বৈশাখি সন্ধ্যে, রাত দশটা, এগারটা ‘হালখাতা’ করে বাড়ি ফেরা ‘বাণিজ্যে বসতি লক্ষ্মী গণেশ’ কখণ চুপি সারে এই বাংলার ‘রিচুয়াল’ হয়ে গেছে। ধর্ম নয় উৎসব হয়ে আছে আজও আমার আমাদের বয়সী বাঙালির কাছে। সাদা-রঙ্গিন পায়জামা, পাঞ্জাবি সব সময় এই ভারতে নতুন মাত্রা এনে দেয়। বাঙালি তাঁর মধ্যে অন্যতম সেই মাত্রার নতুন গন্তব্যে পৌঁছে দেয় আমাদের। আক্ষেপ করার কথা যারা বলে তাঁদের আহাম্মক বলতে চাই না। বা বলার মত প্রশ্রয় আমার নেই। সারা বাংলায় আমাদের মামা, মাসি, কাকা পিসিদের বাড়ি ছড়িয়ে রয়েছে। সেই কারণে যেমন সমস্ত বাংলার জেলাগুলি ছুঁয়ে দেখেছি, ঠিক একইরকমভাবে গণসংগঠন করার সময় প্রত্যন্ত গ্রাম বাংলা দেখেছি। সাংবাদিকতা সূত্রেও অনেক জেলা ঘুরতে হয়। উত্তর বঙ্গের কোচবিহার, জলপাইগুড়ি, শিলিগুড়িতে বাংলা নববর্ষের হৈ চৈ উপস্থিতি ছিল। আজ কতটা আছে? বীরভূম, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, বর্ধমান বা রাঢ় বাংলার ‘বাংলা নববর্ষ’ শিমূল, পলাশের বাসন্তিকা ডাক দিয়ে দিয়ে নিয়ে যেত ধূ ধূ প্রান্তর ভাঙ্গা মহুল ফুলের শান্ত ভাষায়। লাল সরানে। ‘ই বাবু আমার টাকা লায়, এই লে দশঘড়া ধান লে’। সব টাকা তুর শুধ করি দিলুম। লয়?’ শুভ নববর্ষ বাংলার অহংকার। বর্ধমান জেলার পূর্বস্থলী থানার পাটুলিতে আমার মামার বাড়ি। অনেকটা সময়ের শৈশব কৈশোর কেটেছে মামাতো ভাইবোনদের সঙ্গে। পাটুলিতেও দেখেছি গঙ্গার চরে টিনের দেওয়াল দেওয়া এক কামরা দু কামরার ঘর। টিনের ছাউনি। কাঠের জানলা। সেইসব বাড়ির দোকান, গৃহস্থ ঘরে একই সুরে ‘বাংলা নববর্ষ’ পালন হত। গঙ্গায় নৌকা ভাসত কাঠের দেওয়ালে সিঁদুরে আঁকা মাঙ্গলিক চিহ্ন নিয়ে। নৌকার ছইয়ে আঁকা সেই লাল হলুদ সিঁদুরের প্রাচুর্য। এই শতাব্দীর প্রথম দশকে দেখেছি। সুন্দরবনের প্রত্যন্ত অঞ্চলে মাতলা, বিদ্যাধরি, হাতানিয়া দেয়ানিয়া সহ বিভিন্ন নদীর বুকে ভেসে থাকা নৌকায় মাঝিরা ‘শুভ নববর্ষ’ লিখে নৌকা নিয়ে পাড়ি দিয়েছে মাঝ দরিয়ায়। কখনও কখনও স্মৃতি ফিরে এসেছে নির্মলেন্দু  চৌধুরীর গলায় ‘ও আমার তিস্তারে......।’  এসো হে বৈশাখ এসো এসো। বৈশাখ তুমি হারিয়ে যেওনা। জণসংযোগের এত বড় উৎসব বাঙালির একান্ত নিজস্ব। দুর্গা পুজোর পর বাঙালির জীবনে এতবড় উৎসব আর কটা আছে? বর্তমান বিশ্বে ৩০ কোটি বাঙালি। আচ্ছা ভাবুন আমাদের দেশের রাজধানী দিল্লির কথা। ১৯১১ সালে কলকাতার বাবু বাঙালিদের সাহেবরা দিল্লি নিয়ে গেলেন। নতুন রাজধানীর আমলাতন্ত্র সামলানোর জন্য। এই শ্রেণির বাঙালি দীর্ঘদিন দিল্লিতে। এটা যদি প্রথম শ্রেণির বাঙালির দিল্লি যাওয়া হয়। দ্বিতীয়বার গেলেন দেশ স্বাধীন হওয়ার পর কর্মসূত্রে যারা দিল্লি গেলেন এবং দিল্লিতে থেকে গেলেন যেসব বাঙালি। তৃতীয় দফায় গেলেন পশ্চিমবঙ্গ এবং বাংলাদেশের বাঙালি। যারা বাবু বাড়ির বিভিন্ন কাজ করেন। এবং রিক্সা চালান। দিল্লির এই তিন শ্রেণির বাঙ্গালিকে বাংলা নববর্ষের দিন দেশের রাজধানী শহরে এক ঘণ্টার জন্যা রাস্তায় আনতে পারলে বাংলা তথা বাঙালির অস্তিত্ব জানান দেওয়া যায়। প্রবীণ কংগ্রেস নেতা এবং প্রাক্তন বিধায়ক দেবপ্রসাদ রায় বলছিলেন, ‘’দিল্লিতে আমি পরিবার নিয়ে দীর্ঘদিন থাকি। আমি নিজেও কর্মসূত্রে দিল্লির বাঙালি। দিল্লিতে ৭০০ সর্বজনীন এবং কালীবাড়ির মত দুর্গাপুজা হয়। দিল্লির বাঙালিরা যদি কেন্দ্রীয়ভাবে ‘শুভ বাংলা নববর্ষ’ করে তাহলে বাংলার সংস্কৃতির গভীরতা আমরা জানান দিতে পারি। শিখ সম্প্রদায়ের মানুষরা যেভাবে গুরু পরব করে।‘’        
আহা যদি একটা মিছিল করতে পারতাম! অথবা এমনটা কি ভাবা যায় সারা বিশ্বের বাঙালি ১লা বৈশাখ ‘শুভ নববর্ষ’ উদযাপন করবে পরস্পরে হাতে হাত রেখে। যে ভাষায় সংহতি দিবস পালন করা হয়। সেখানে কোনও ধর্ম থাকবে না। সম্প্রদায় থাকবে না। থাকবে শুধু মানুষ। মানব বন্ধন বলতে পারেন। আমি মানব শৃঙ্খল বলার অনুমতি চাইছি আপামর বিশ্বের বাঙালির কাছে। সবার উপর মানুষ সত্য তাহার পর নায়।
পশ্চিমবঙ্গে বাংলা নববর্ষ উদযাপন করা যায় কিনা সেই প্রশ্ন নিয়ে এই বাংলার দু’একজন রাজনীতিবিদের সঙ্গে কথা বললাম। প্রায় সকলেই একমত বর্তমান সময়ে ‘বাংলা নববর্ষ’ আমাদের স্বত্বা চেনাতে সাহায্য করতে পারে। পশ্চিমবঙ্গের বিরোধী দলনেতা আব্দুল মান্নানের বক্তব্য, কেন্দ্রীয়ভাবে কোনওদিন সেভাবে করা যায়নি। কারণ এআইসিসি এবং পিসিসি রাজনৈতিক কর্মকান্ডে অনেক বেশি ব্যস্ত থাকে। কংগ্রেস ঘরানার রাজনীতিতে দেশের জন্য প্রাণ বলিদান দিয়েছেন সব থেকে বেশি মানুষ। সেটা স্বাধীনতার আগে হোক বা পরে। মান্নান সাহেব আরও বলেন, ‘’তবে বাংলা নববর্ষ কেন্দ্রীয়ভাবে করা উচিত। কংগ্রেসের সাংস্কৃতিক শাখা সারা রাজ্য জুড়ে বাংলা নববর্ষ উৎসব ব্যাপকভাবে পালন করতে পারে। এই ধরণের উৎসবে নানা বর্ণের মানুষ সামিল হয়ে থাকে। এখানে ধর্মের কোনও ভেদাভেদ থাকে না। কোনদিন ছিলও না। হালখাতার অনুষ্ঠানে সব মানুষ সামিল হয়। এটা আমার মত বাঙালিদের কাছে উৎসবেরমত। সমস্ত বাঙালির অহংকার এই উৎসব।‘’
 পরে কংগ্রেসের প্রবীন এবং বর্তমানে রাজ্য বিধানসভার বিরোধী দলনেতা যুক্তি দিয়ে বোঝান বাংলা নববর্ষ কংগ্রেস রাজ্য জুড়ে এবং কেন্দ্রীয়ভাবে করলে দলগতভাবে যেমন লাভ। পাশাপাশি ধর্মনিরপেক্ষতার প্রশ্নে সামাজিকভাবেও কংগ্রেস লাভবান হবে। কংগ্রেস এই উৎসব পালন করলে কংগ্রেসের অনেক কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব ধুতি পাঞ্জাবী পরে পরবর্তী প্রজন্মকে বাংলার এবং দেশের বৃহত্তর স্বার্থে প্রভাবিত করতে পারবে।
তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ইতিমধ্যেই দলের এক অধ্যাপককে দায়িত্ব দিয়েছেন। রাজ্যে দলগতভাবে কেন্দ্রীয়ভাবে ‘বাংলা নববর্ষ’ উদযাপন করার জন্য। সূত্রের খবর তৃণমূল কংগ্রেস সারা রাজ্যে প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে। সিপিএমের রাজ্য কমিটির এক নেতা বললেন, ‘’আমরা আইপিটিএ আন্দোলনের সময় থেকেই ‘বাংলা নববর্ষ’ পালন করি। নিশ্চয়ই দলগতভাবে নয়। সাংস্কৃতিক শাখা এই ধরণের অনুষ্ঠানে সামিল হয়। ৩৪ বছরের বাম জমানায় যে সব ছোট ছোট দোকান, ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান এই অনুষ্ঠান করেছে তাঁরা আমাদের গণ সংগঠনের সঙ্গেই যুক্ত ছিল। গেরুয়া ঝড় আটকাতে দিদিভাই কি করছেন?’’ কংগ্রেসের সহ সভাপতি রাহুল গাঁধি রামনবমী উৎসব উপলক্ষে বলেছেন, ‘’ভারত এমনই একটা দেশ, যে দেশে ইন্দ্রধনুষের বৈচিত্র আছে। আমার এই দেশে সব ধর্মের এবং সংস্কৃতির গভীরতা রয়েছে। সেই গভীরতার ঝলক আমি সারা দেশে দেখতে পাই।‘’
বর্তমান সময়ের প্রেক্ষাপটে একটি বিতর্ক নতুন করে সামনে এসেছে। কলকাতায় একটি রাজনৈতিক দলের রামনবমী উপলক্ষে পরপর দু’দিন মিছিল। বড় থেকে শুরু করে ছোট ছোট ছেলে মেয়েদের হাতে ছিল তরোয়াল, ত্রিশূলের মত ধর্মীয় অস্ত্র। বিরোধীরা এই মিছিলের মধ্যে দিয়ে সামাজিক অস্থিরতা দেখতে পাছেন। সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক সূর্যকান্ত মিশ্র বৃহস্পতিবার সাংবাদিক সম্মেলনে বলেন, ‘’দেশ চূরান্ত সঙ্কটের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। যারা আন্তরিকভাবে রামনবমী পালন করে আসছেন সে বিষয়ে আমাদের আপত্তি নায়। কিন্তু নির্দিষ্ট জায়গায় রামমন্দির গড়ে তোলার জন্য রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় যে সব শিবির হয়েছে সেখানে রামমন্দির নিয়ে প্রচার করা হচ্ছে। রাজ্যে রামরাজাতলা অনেক আগে থেকেই আছে। রামচন্দ্র বাংলার মানুষের কাছে পূজিত হতেই পারেন। সেটা নিয়েও আমাদের বলার কিছু নেই। কিন্তু রাজ্যে সাম্প্রদায়িকতার বিষ ছড়ানো হচ্ছে একটি দু’টি শিবির থেকে। সেই নিয়ে রাজ্য সরকারের কোনও হেলদোল নেই।‘’
সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক আরও বলেন, ‘’কেউ রামে আশ্রয় নিয়েছে কেউ হনুমানে আশ্রয় নিয়েছে। যা হচ্ছে সেটা আমাদের ঐতিহ্য, আমাদের পরম্পরা তার বিরোধী। এটা সর্বনাশের পথ। কেউ ওই পথে যাবেন না। একদল বুদ্ধিজীবী অরাজনৈতিকভাবে আন্দোলন করতে চাইছেন। এই সময় নীরব থাকা, নিশ্চুপ থাকা আমরা অনুমোদন করতে পারি না। আমাদের দেশ, আমাদের রাজ্য আমাদের সংবিধান আক্রান্ত। ঝান্ডা ছাড়া দলমত নির্বিশেষে শান্তি মিছিল, সভা ইত্যাদি হতে পারে। চূড়ান্ত সঙ্কটের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে দেশ। গণতান্ত্রিক, ধর্মনিরপেক্ষ সমস্ত মানুষের কাছে আমাদের আবেদন আপনারা এগিয়ে আসুন। আমরা বামপন্থীরা সঙ্গে আছি।‘’
কবি শঙ্খ ঘোষ বলেছেন, ‘’ধর্মের নামে বিপজ্জনক এক রাজনৈতিক খেলা।‘’ বিজেপির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক রাহুল সিংহ বলছেন, ‘’তরোয়াল, ত্রিশূল এগুলো আবার অস্ত্র নাকি? এখন আগ্নেয়াস্ত্র হচ্ছে অস্ত্র। যে মিছিল রামনবমী উপলক্ষে হয়েছে এই ধরণের মিছিল আগেও হয়েছে।          
এই বাংলার ভাবার সময় এসেছে। পণ্য সংস্কৃতি উৎপন্ন এবং পরিবেশন যারা করছেন তাঁরা তাঁদের ব্যবসার অভিমুখ সময় উপযোগী করবেন। এবং শিল্প বাণিজ্য মহল তাঁদের ব্যবসা করার জন্য যে সব ব্যবস্থা নেবার তাঁরা নেবেই। কিন্তু বাংলার চিরন্তন ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে এই বাংলার নতুন প্রজন্মের বুধিজীবীরা কি ভাবছেন? গত কয়েক বছরে বাংলা সহ সমস্ত দেশে দলিত সম্প্রদায় ভুক্ত মানুষেরা কেমন আছেন? সম্প্রতি (৪ এপ্রিল, ২০১৭) ‘কাউন্টার ভিউ’ পোর্টালে রাজীব শাহ লিখছেন। আসুন সেই ছবি আমরা পড়ি।
‘’National Campaign on Dalit Human Rights (NCDHR), the apex body of India’s Dalit rights organizations, has in a report submitted to the United Nations (UN) insisted that the country’s reservation measures “must be extended to Dalits of all faiths, especially to Dalit Christians and Muslims.”
Pointing out that Dalit Christians and Muslims are “presently excluded from the reservation benefits owing to religion-based discrimination”, NCDHR report insists, “The Constitution Scheduled Castes Order 1950, Paragraph 3's religious ban ought to be removed/deleted or amended by Union of India for the extension of Scheduled Castes privileges to Christians and Muslims of Scheduled Castes origin.”
Prepared following consultations with 563 Dalit rights bodies across India with the help of the All-India Dalit Mahila Adhikar Manch, Dalit Ardhik Adhikar Andolan, the National Dalit Movement for Justice, and the National Dalit Watch, the NCDHR report, titled “Joint Stakeholders’ Report on Caste-based Discrimination in India” has been submitted for discussion at the 27th Session of the Universal Periodic Review of the UN Human Rights Council – India, scheduled in May 2017.
A year ago, a 
US State Department report on the human rights situation in India had said that though “some Christians and Muslims were identified as Dalits”, the Government of India had preferred to limit “reservations for Dalits to Hindus, Sikhs, and Jains.”
The US report had come had come following a report submitted in 2014-end to the Narendra Modi government by a high-level committee headed by well-known academic Amitabh Kundu, which 
insisted that “the Dalit Muslims must be taken out of the other backward classes (OBC) list and incorporated in the scheduled caste list.” 
কংগ্রেসের সভাপতি সনিয়া গাঁধিও কি দেশবাসিকে সেই কথা মনে করিয়ে দিয়েছেন? তিনি গত সপ্তাহে বলেছেন, ‘’Secularism is more than a majority-minority issue. It is a struggle between those who wish to preserve the essence of their religion and those who seek to deliberately distort that essence.’’
পশ্চিমবঙ্গে ‘বাবু বাঙালি’ গণেরা (হিন্দু এবং মুসলিম-উভয় সম্প্রদায়) নিজেরা উচ্চশিক্ষিত হলেও নিম্নবর্গের মানুষদের শিক্ষিত করে তোলার দায় কোনদিনই নেয়নি। তাই রাজ্যের আপামর মানুষ আজও আধুনিক শিক্ষার আলোয় আলোকিত নয়। এই রাজ্যকে ‘বাম’ আন্দোলনের আঁতুর ঘর বলা হয়। দেশ ভাগের অভিশপ্ত বিছার কামড়ে উদ্বাস্তু জঙ্গমের ঢেউকে এই রাজ্য আপন গড়িমায় জায়গা করে দেয়। তাই হয়তবা ‘জাতিভেদ’ প্রথার বিরুদ্ধে কোনও সচেতন দীর্ঘস্থায়ী আন্দোলন গড়ে ওঠেনি আমাদের পশ্চিমবঙ্গে। হয়তবা এই কারণেই জ্যোতিবা ফুলে, ডঃ ভীমরাও আম্বেদকর অথবা রামস্বামী নাইকার পেরিয়ারের মতো নেতা আমাদের রাজ্য পায়নি। পাশাপাশি এটাও আরও একটি বাস্তব যে ‘মারাঠি’ অস্মীতার স্বত্বা নিয়েও মহারাস্ট্রে যে আন্দোলন (ধ্বংসাত্বক হোক বা আত্মরক্ষার প্রয়োজন) গড়ে উঠেছে তাও এই বাংলায় দেখা যায়নি। ‘মারাঠি’ জাতির স্বঘোষিত সেনা নায়ক বাল কেশব ঠাকরের বা বাল ঠাকরের মতো দীর্ঘ পুরুষও এই বাংলা পায়নি।            

সেই শুন্যস্থানে বাঙালির বারমাসে তের পার্বণের মধ্যে ‘বাংলা নববর্ষ’ ‘শারদ উৎসব’ এর মত আলো, প্যান্ডেল, থিম ইত্যাদির ভীড়ে আজও আন্তর্জাতিক হয়ে ওঠেনি। এই জন্যই সম্ভবত ‘বাংলা নববর্ষ’ কে আলাদা করে নির্দিষ্ট কোনও ধর্মের সঙ্গে দাগিয়ে দেওয়া সম্ভব নয়। আজ এই বাংলায় চৈতন্য, গুরু নানক, কবির, গৌতম বুদ্ধের খুব প্রয়োজন।  গ্রীষ্মের প্রখর রৌদ্রের প্রশ্রয়ে নববর্ষের দিন বাঙালি সকাল সন্ধ্যে শুধুমাত্র ‘টিভিঘরে’ লাইভ অনুষ্ঠানে নিজেদের বন্দী না রেখে শুরু হোক প্রভাত ফেরি। আছেন, ছিলেন থাকবেন রবীন্দ্রনাথ, শরৎচন্দ্র, জীবনানন্দ, বুদ্ধদেব বসু, রামমোহন, বিবেকানন্দ, কাজি নজরুল, মুজতবা আলি, হেমন্ত, মান্না দে, সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়ের পুরনো দিনের গান। কান্তকবিরাও ফিরে আসুক আধুনিক কন্ঠশিল্পিদের বৃন্দগানে। এ বছর দিনটা উৎসব মুখর হোক কীর্তন, বাউল, পল্লীগীতি, ভাওয়াইয়া, ভাটিয়ালি সহ বিভিন্ন ঘরানার লোকগীতি হোক। বাচিক শিল্পিরা দায়িত্ব নেবেন বৈশাখকে মনে করিয়ে দিতে। গানে, কবিতায়, ব্যানারে, ফেস্টুনে, ফ্লেক্সের কথামৃত হোক শুধু বাংলায়। সূর্যালোক আলিঙ্গন করুক স্পর্ধাকে। বাঙালির ঔদ্ধত্যকে। বাঙালির ঞ্জানকে। আপামর বাঙালির উদারতাকে। শুভ নববর্ষ ১৪২4.

Sunday, 2 April 2017

চন্দ্রালোকিত টিলা

চন্দ্রালোকিত টিলা: 

আমার বাড়ির কয়েক ছটাক দূরে
ওই দেখা যায় লাল মাটির সরান, মহুল ফুলের
উথাল পাথাল ঘ্রাণ। শিমূল শাখে নতুন পাতার কোলাহল।
কেউ কেউ বলে এখানে কোলাহল থেমে গেছে।
তা কেন? প্রেম এসেছিল সেই কোন বিহান বেলায়।
সূর্য কোলাহলে উত্তাপ ছিল
চন্দ্রালোকের স্নিদ্ধতায়। প্রেমে আছে ঐশ্বরিক স্নিদ্ধতা।
অনেকে বলে প্রেম আসে যৌন আলিঙ্গনে।
কোথায় যে যাই? কার কথা বিশ্বাস করি?
সেদিন দেখলাম বুড়ো আমগাছটায় কতশত
সবুজ আম। গাছের ডাল ঝুঁকে গেছে।
ওই বিদেশের সাদা বকেরা ফিরে গেল,
বলে গেল আ-মরণ আমার! বুড়ো গাছের জৌলুস দ্যাখ।
প্রেম এসেছিল কোন বিহান বেলায়।
আমার বাড়ির কয়েক ছটাক দূরে
ওই দেখা যায় নাগরিক পাহাড়ের টিলা।
আজও সেই টিলার মিঠে-তেতো নীম গাছটায়
নীম ফল হয়?
আজও কি সূর্য কোলাহলে উত্তাপ আছে?
এখানে কোলহল থেমে গেছে,
গঞ্জ শহরটায় বুড়ো কোকিলের ডানায়
পলাশের স্পর্শকাতর পাঁপড়ি।
প্রেমে আছে ঐশ্বরিক স্নিগদ্ধতা।
আবার কোলাহল হবে সূর্যালোকের বর্ণচ্ছটায়,
গ্রাম্য মেঘের রঙিন ঘোমটায় শহর বারান্দায়,
বহুতল বাড়ির চিলেকোঠায়। 

Friday, 17 March 2017

মানুষ গড়ার কারিগর

মানুষ গড়ার কারিগর:   

সেদিন সারা দেশের মানুষ সাত সকাল থেকে বাড়ির বৈঠকখানা ঘরে টিভির সামনে বসে। নাগরিক ভারত, রাজনীতি সচেতন তরুণ ভারত সেদিন সুসজ্জিত আধুনিক ড্রয়িং রুমের ডিজিটাল টিভিতে নিউজ চ্যানেল খুলে বসে আছে। ভোট পাঁচটা রাজ্যে হলেও তামাম ভারতবাসির নজর উত্তরপ্রদেশ। সাংবাদিকদের ভাষায় উল্টাপ্রদেশ। সাংবাদিকদের ভাষাটাই ১১ মার্চ, ২০১৭ তে প্রমাণ হয়ে গেল। যে সম্ভাবনার জন্ম হয়েছিল। সোশ্যাল মিডিয়া, প্রিন্ট মিডিয়া এবং বৈদ্যুতিন মাধ্যম সেই সম্ভাবনাকে আমাদের সামনে তুলে ধরেছে। আমরা আশা এবং পাহারপ্রমান উচাশা নিয়ে ভাবতে শুরু করেছিলাম কংগ্রেস-সপা জোট এবার উত্তরপ্রদেশ দখল করবে। দুই দলের দুই নেতা যথাক্রমে কংগ্রেসের রাহুল গাঁধি এবং সমাজবাদী পার্টীর অখিলেশ যাদব পরিশীলিত সংলাপে পাতার পর পাতা নতুন ভাষায় তরুণ ভারতের গণতন্ত্র তৈরি করছিলেন। শিক্ষিত ভারতীয় নাগরিক, দেশ বিদেশের সাংবাদিক, আলোচক, সমালোচক দুই যুবনেতাকে দেশের রাজনীতির ভবিষ্যৎ কাণ্ডারি হিসাবে দেখতে চেয়েছে। কিন্তু ১১ মার্চ যে খবর ইথারবাবুদের মাধ্যমে তরঙ্গবাহিত হয়ে আমাদের কাছে এল সেটা আমাদের মত সচেতন নাগরিকের কাছে একদম প্রত্যাশিত ছিল না। আজ সারা ভারত জেনে গেছে বিজেপি দলের এক এবং একমাত্র নেতা বিকাশ পুরুষ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী উত্তরপ্রদেশে নিজের আধিপত্য বজায় রেখেছেন। উত্তরপ্রদেশ এবং উত্তরাখণ্ড দুটি রাজ্যে বিপুল ভোট পেয়ে সরকার গঠন করছে বিজেপি। দলের দুই কাণ্ডারি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং বিজেপি সভাপতি   অমিত শাহ নিঃশব্দে নীরবে কাজ করে এই জয় এনে দিতে পেরেছেন। এমনটাই দাবি উত্তরপ্রদেশ সহ সমস্ত দেশের বিজেপি কর্মকর্তা এবং সাধারণ সমর্থকদের। উত্তরপ্রদেশে ভোটের ফলাফল হয়েছে, বিজেপি+ ৩২৫, এসপি- ৪৭, কংগ্রেস- ৭, বিএসপি- ১৯ এবং অন্যান্য-৫। মোট ৪০৩ আসন। পাঁচটি রাজ্যে ফলাফল প্রকাশের পর পরই অনেকের সুর বদলে গেছে। বা বদলে যাচ্ছে। মেনে নিতে বাধ্য হচ্ছে একবিংশ শতাব্দীর প্রথম দশকের গুজরাট আর আজকের ভারত এক নয়। তৎকালীন এনডিএ সরকারের সুবক্তা এবং কোয়ালিশন রাজনীতির নীরব কারিগর প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারি বাজপেয়ী গুজরাটের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে ‘রাজধর্ম’ পালনের কথা বলেছিলেন। সেই কথা মনে রেখেই সম্ভবত তিনি দলিত এবং ওবিসি গোষ্ঠীভুক্ত মানুষদের হিন্দুত্বের ছাতার নিচে নিয়ে এসে এসপি এবং বিএসপি ভোট ব্যঙ্কে থাবা বসিয়েছেন। মোদী নিজে ধনিকশ্রেণির প্রতিনিধি নন এই বিশ্বাস গরিব দলিত মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে পেরেছেন। সেই বিশ্বাস বাস্তবের সঙ্গে মেলাতে নরেন্দ্র মোদী বাল্মীকি মন্দিরে পুজো দিয়েছেন। এর পরেই দক্ষকারিগরের মত ‘উন্নয়ন’ নামক এক বিশ্বায়ন সংশ্লিষ্ট ধারণাকে নিজের ফর্মুলায় হিন্দুত্বের সঙ্গে মিশিয়ে নিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর নতুন শ্লোগান ২০২২ সালের মধ্যে ‘নতুন ভারত নির্মাণ’। আলোচ্য দশকে সেই বিজেপি নেতা উত্তর প্রদেশ ভোটে সংখ্যালঘুদের ১০ শতাংশ ভোট পেয়েই সিংহ গর্জনে দলের সমস্ত রাশ নিজের হাতে নিয়েছেন। উত্তর প্রদেশে বিধাসভা ভোটে বিজেপির মুসলিম ভোট পাওয়া নিয়ে যে উচ্চতায় আলোচনা হছে সেটা কতটা সঠিক? ভবিষ্যৎ বলবে সমাজ বিঞ্জানের ভাষায়। ‘তিন তালাক’ নামক এক বিতর্কিত সামাজিক বিষয়ে বিজেপির অবস্থান কে দু’হাত তুলে সমর্থন করেছে আজকের শিক্ষিত মুসলিম সমাজ। যার প্রভাব উত্তরপ্রদেশে পড়েছে। বিশেষত শিক্ষিত মুসলিম মহিলাদের ভোট পেয়েছে বিজেপি প্রার্থীরা। অথচ রাজ্যের ভোটে বিজেপি দলের কোনও মুসলিম প্রার্থী ছিল না। মেরুকরণ ভেঙ্গে এবছরের উত্তর প্রদেশ নির্বাচন আধুনিক ভারতের সীমানা ভাঙতে চাইছে। এই বিশ্বাস আমদের গড়ে দিয়েছে। পাশাপাশি উল্টোদিকটাও রয়েছে। উত্তরপ্রদেশ বিধানসভায় মুসলিম প্রতিনিধির সংখ্যা ছিল ৬৯। কমে হয়েছে ২৪। এবছরের ভোটের পর রাজ্যের ১৯ শতাংশ জনসংখ্যার প্রতিনিধিত্ব ৬ শতাংশে নেমে এল। একটি সূত্র দাবি করছে অতীতে বিজেপি দেওবন্দ থেকে দু’বার বিধানসভায় প্রার্থী পাঠিয়েছে। ১৯৯৩ সালে শশিবালা পুন্দির এবং ১৯৯৬ সালে সুখবির সিংহ পুন্দির মুসলিম অধ্যুষিত ‘দেওবন্দ’ বিধানসভা কেন্দ্র থেকে ভোটে জয়ী হয়। ১৯৯২ সালে রামমন্দির ইস্যুকে কেন্দ্র করে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল তার পরবর্তী নির্বাচনে ওই ১৯৯৩ সালেই দেওবন্দ কেন্দ্র থেকে দক্ষিণপন্থী প্রার্থী জয়ী হয়।
জাতপাতের সমস্যা আছে এমন এক জটিল মেরুকরণের রাজ্য উত্তরপ্রদেশ। বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ নীরবে জাঠেদের ভোট টানতে ব্যবহার করেছেন সংখ্যালঘু তাস। বিজেপি সভাপতি ছুটেছেন কুমহার, কুর্মি, মাল্লার, লোধ, বাল্মিকি, ধোবি, কোরি প্রভৃতি সম্প্রদায়ের কাছে। নিম্নবর্ণের হিন্দু ভোট পকেটে পুড়েছেন বিশ্বায়ন সংশ্লিষ্ট ‘উন্নয়ন’এর কথা বলে। ওইসব নিম্নবর্ণের মানুষদের বঞ্চনার কথা মনে করিয়ে দিয়েছেন। প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন আগামী ভবিষ্যতে আর্থিক এবং সামাজিক সম্মান এনে দেওয়ার। বিজেপি সুত্রে খবর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী গুরুত্ব দিয়েছিলেন ‘লিডার্স ইন কমিউনিটি’ যারা ছিলেন তাঁদের। তথাকথিত ‘কমিউনিটি লিডার’দের বিজেপি রথের সারথি নরেন্দ্র মোদী পাশে সরিয়ে রেখেছিলেন। সুকৌশলে সংখ্যালঘু ভোটব্যঙ্ককেও ব্যবহার করতে পেরছেন একজনও সংখ্যালঘু প্রার্থী না রেখে। কোন ম্যাজিকে এটা সম্ভব?        
কংগ্রেসের প্রবীণ নেতা মণিশঙ্কর আয়ার এনডিটিভি ওয়েব পেজে ১৬ মার্চ, ২০১৭ উত্তরপ্রদেশ ভোটে মুসলিম ভোট নিয়ে কি লিখেছেন একবার পড়ে নিতে চাইছি।
 ‘’As I found myself through most of last Saturday being battered in TV studios by the election results as they inexorably poured in, there was one illuminating moment when I suddenly understood what this election was about. Asked why the BJP had not found one candidate to contest any of 403 seats in UP, Swapan Dasgupta replied that it was perhaps because they were not able to find any Muslim who "adhered" to their programme
Amazing! Of 40 million Muslims in UP, who constitute about a quarter of the population of the state, the BJP were unable to find even one Muslim to field who, adhering to their programme, could win a seat for them. Yet, the BJP won 324 seats of 403. All those who did field Muslims lost badly, and those who won did so because they wrapped all Hindu communities into a single Hindu saffron flag. That was Savarkar's "idea of India" - the marginalization of the minorities to promote the unity of Hindu India. The UP outcome is the first major political triumph in nearly a century of the Hindutva Idea of the Indian nation. It is that which we have to fight. This moment of disaster is not, therefore, the moment to surrender. We have to remain in the contest. But how?’’   
উদাহারণ হিসাবে আমরা তথ্যপ্রযুক্তি ব্যক্তিত্ব মোহনদাস পাইয়ের লেখা একবার পড়ে নিতে পারি। উত্তরপ্রদেশে ২০১৭ সালে বিধানসভা ‘নতুন ভারত’এর যে দিকচিহ্নের নতুন পাথর আমাদের সামনে এনে দিয়েছে সেই ভারতশীলা সনাতন ভারতকে আধুনিক থেকে উত্তর আধুনিক ভারতে উত্তরণ করবে। এই দূরদর্শিতা ভারতীয় সমস্ত দলের রাজনৈতিক ব্যক্তিদের আছে আশা করতেই পারি। যে কথা পণ্ডিত নেহরু কংগ্রেসের সাংগঠনিক বিষয়ক সমস্যাকে সামনে রেখে কংগ্রেস কর্মীদের মনে করিয়ে দিয়েছিলেন। আগে স্বাধীনতা তারপরে আধুনিক ভারত। একুশ শতাব্দীর দ্বিতীয় দশকে বিজেপির ঝড় তোলা রথের গতি জানতে তাই মোহনদাস পাইয়ের বক্তব্য আমাদের জানা প্রয়োজন। ১৩ মার্চ, ২০১৭, তথ্যপ্রযুক্তি ব্যক্তিত্ব মোহনদাস এনডিটিভি ব্লগে লিখছেন,
‘’The massive victory of the BJP in UP has many lessons for India's political parties. A great majority of the voters are below the age of 40 and their world view is largely shaped by the heady growth in GDP of 8.4% in $ terms per annum over 25 years. They want growth, development and jobs, not caste politics, Mulayam and Lalu's brand of crony socialism, or religious conflict. Women seem to have voted largely for PM Modi as they felt that he would protect them and ensure respect and economic opportunities, not the Goonda Raj of the SP’’ .

অতীতকে মনে রেখেই ভোটের পর দিল্লি রোড শো এবং হোলি মিলনের অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী দলের নেতা কর্মীদের মনে করিয়ে দিয়েছেন দায়িত্বের কথা। উদাহারণ দিয়েছেন গাছের। তাঁর কথায় ফল এলে গাছ যেমন ঝুঁকে যায়, এই ভোটের ফলের পরে দলকে আরও নম্র হতে হবে। সরকার সকলের যাঁরা দলকে ভোট দেননি তাঁদেরও। ওই সভায় মোদী ২০১৪ সালের ইস্তাহার প্রকাশের সময় বলা তাঁর সেই ঐতিহাসিক বক্তব্যকে টেনে এনে বলেছেন, ‘’তখন আমার কথার অন্য মানে করা হয়েছিল। তবুও সাহস আছে বলেই ফের বলছি, অসৎ উদ্দেশ্য নিয়ে কোনও কাজ করব না।‘’
মোদীজির ২০২২ সালের মধ্যে ‘নতুন ভারত নির্মাণ’ প্রসঙ্গে কংগ্রেস নেতা রণদীপ সিংহ সুরজেওয়ালা নিজের ব্লগে লিখেছেন,
 ‘’Abduction, defection, inducement, intimidation and polarization characterize the vision for “New India” under Mr. Modi.’’
১১ মার্চ আমিও আমার দু কামরার সাধারণ ঘরে একজন শ্রমজীবী সাংবাদিক এবং সাধারণ মানের ব্লগার হিসাবে খবর শুনছিলাম। শুধু শুনছিলাম বলব কেন? বৈদ্যুতিন মাধ্যম যখন অতি উৎসাহে খবর দেখছিলাম বলাই ভালো। একটি সর্বভারতীয় ইংরেজি চ্যালেলের অত্যন্ত দক্ষ মাঝবয়সি এক সাংবাদিক উত্তর প্রদেশের বিজেপি সভাপতি কেশবপ্রসাদ মৌর্যের সাক্ষাৎকার নিচ্ছেন। সাংবাদিক প্রশ্ন ছুড়লেন, আব হামারা আখরি সওয়াল। আভি উত্তর প্রদেশ সরকার আপকি হোগি। রামমন্দির ইস্যু ফির সামনে আয়েগা? আপকা বিরোধী দল ইয়ে বাতচিত কর রহে হ্যায়।
সাংবাদিক মহাশয়ের কথা একরকম ছিনতাই করে নিয়ে বিজেপির রাজ্য সভাপতি কেশবপ্রসাদ মৌর্য বললেন, ‘’ইয়ে একদম বকওয়াস হ্যায়। হামারা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীজি উন্নয়নকে বারে সোচতে হ্যায়। দলিত ওবিসি প্রমূখ শ্রেণীকে লিয়ে বহুত কাম করনা হ্যায়। আভি বিজেপি উন্নয়নকে লিয়ে সোচতা হ্যায়। স্রিফ উন্নয়ন। আগে দেখিয়ে না কেয়া হোতা হ্যায়।‘’             
উত্তরপ্রদেশ আজও যেহেতু ভারতের ভাগ্যবিধাতার অনেকটা হ্রদয়জুড়ে তাই ৪০৩ আসন পাওয়াটা যেমন বিজেপির ক্ষমতা অনেকটা বাড়িয়ে দিয়েছে। সে সাংগঠনিক হোক বা প্রশাসনিক। এইসব নিয়ে ইতিমধ্যে চর্চা শুরু হয়ে গেছে। স্বাভাবিকভাবেই কংগ্রেস সহ অন্যান্য বিরোধী দলগুলির চিন্তা করার সময় এসেছে। ২০১৯ সালে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে আমনে সামনে লড়াই করার মত সংগঠন প্রয়োজন। প্রয়োজন ওই মাপের এবং উচ্চতায় নেতা ঠিক করা। কে বা কোন দল এই দায়িত্ব নেবে? সম্প্রতি রুপা প্রকাশনী এবং ডঃ আম্বেদকর ইন্সটিটিউট অব সোশ্যাল ইকনমি-এর যৌথ উদ্যোগে একটি বই প্রকাশ অনুষ্ঠানে সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরি বলেন, ‘’The political structure of one man one vote, one vote one value can’t sustain till we achiuve one man= one vote.
ওই দিনের বই প্রকাশ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ডঃ মনমোহন সিংহ, প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী পি চিদম্বরম, এনসিপি নেতা এবং প্রাক্তন কেন্দ্রীয়মন্ত্রী শরদ পাওয়ার এবং আরও অনেকে। অনুষ্ঠানের পরে ইয়েচুরি তার বক্তব্য ওই দিন ট্যুইটও করেন। সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক যে দর্শনের কথা বলেছেন সেটা থেকে ২০১৯ সালের বিরোধী জোটের গন্ধ আমরা পাচ্ছি। কিভাবে সেই জোট গড়ে উঠবে? কোন দল এই গুরু দায়িত্ব সামলাতে পারবেন? আলোচনা শুরু হয়েছে। আমাদের সামনে ভারতের সব থেকে বড় দল হিসাবে রয়েছে কংগ্রেস। এই দলটি একাধিক উত্থান পতনের মধ্যে থেকে দলকে যেমন সামনের সারিতে আনতে সক্ষম হয়েছে পাশাপাশি দেশের জটিল সময়েও কংগ্রেস নামক এই দলটি মুশকিল আসান হয়ে ভারতীয় আম আদমির দায়িত্ব পালন করেছে।  ‘ইনক্লুসিভ কংগ্রেস’ পার্টী থেকে ‘ইনক্লুসিভ ইন্ডিয়া’ এই ধারণায় কংগ্রেস দলের উত্তরণ প্রয়োজন রয়েছে আবারও। ১৯৯৮ সালের ‘পাঁচমারি চিন্তন শিবির’ এর সিদ্ধান্ত থেকে বেরিয়ে এসে ২০০৪ সালে  কংগ্রেস সভাপতি সনিয়া  গাঁধির নেতৃত্বে ঝঞ্জা বিদ্ধস্ত, দিশাহীন কংগ্রেসকে আমরা ভারতবাসি ঘুরে দাঁড়াতে দেখেছি। ইউপিএ সরকারের মিশ্র অর্থনীতি এবং সামাজিক ক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত এনে দিয়েছিল কংগ্রেসের নেতৃত্ব। পরে কিছু ক্ষেত্রে বিতর্ক দেখা দেয়। তা সত্বেও বলা যায়, প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ডঃ মনমোহন সিংহ, সনিয়া গাঁধি, এ কে অ্যান্টনি সহ কয়েকজন শীর্ষ নেতৃত্বের ঔজ্জবল্য একটুও কমে না। আজকের বাস্তবতায় উদাহারণ হিসাবে আবার উত্তর আধুনিক ভারতে অন্যতম চর্চার বিষয়।        
কংগ্রেস সহ সভাপতি রাহুল গাঁধিও কাঁধে জোয়াল নিয়ে কংগ্রেস দলটাকে যেমন আধুনিক ঘরানায় নীরবে গড়ে তুলছেন। কংগ্রেস সহ সভাপতি মেনে নিচ্ছেন দলকে আধুনিক ঘরানায় গড়ে নিতে না পারলে বিজেপির মত সংঘ পরিবার নির্ভর দলের সঙ্গে লড়াই করা সম্ভব হবে না। পাঁচ রাজ্যের ভোটের পর ১৪ মার্চ রাহুল গাঁধি সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘’বিজেপির সঙ্গে আদর্শগত লড়াই জারি থাকবে। উত্তর প্রদেশে দলের ফল খারাপ হয়েছে। দু’টি রাজ্যে হারলেও তিন রাজ্যে কংগ্রেস এগিয়ে। এটাই বাস্তব যে, কংগ্রেসের কাঠামো ও সংগঠনের পরিবর্তন ঘটাতে হবে।‘’    
‘ইনক্লুসিভ ইন্ডিয়া’ মনে রেখেই কংগ্রেস সহ সভাপতি রাহু গাঁধি সরব ভারতীয় নীতিনিষ্ঠ জোটের সন্ধানে আছেন।  অখিলেশ যাদব, সীতারাম ইয়েচুরি, ওমর আব্দুল্লা, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, নীতিশ কুমার, বিজু পট্টনায়ক মায়াবতী, লালুপ্রসাদ যাদব সহ বিভিন্ন রাজ্যের একাধিক নেতৃত্বের সঙ্গেও তিনি গঠনমূলক আলোচনা শুরু করতে চলেছেন বলেই আমাদের কাছে খবর আছে। কংগ্রেসের প্রবীণ নেতা মণীশঙ্কর আয়ারও মনে করেন, উত্তরপ্রদেশ সহ পাঁচ রাজ্যের ভোটের পর যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে এই মাহেন্দ্রক্ষণে কংগ্রেস দলের এককভাবে বিজেপির মোকাবিলা করা সম্ভব নয়। দরকার একটি সুচিন্তিত এবং শক্তিশালী নেতৃত্বের জোট। এই প্রসঙ্গে এনডিটিভি ব্লগে একই তারিখে মণিশঙ্কর আয়ার পণ্ডিত জওহরলাল নেহরুর উদাহারণ টেনে লিখছেন,
‘’Even more important than promoting the composite alliance is for the Congress to put its own house in order. What Congressmen and women need to do is hark back to a long-forgotten Presidential Address by Jawaharlal Nehru to the Lucknow Congress in 1936: 

"We have largely lost touch with the masses and, deprived of the life-giving energy that flows from them, we dry up and weaken, and our organization shrinks and loses the power it had."
তিনি আরও লিখছেন, 
‘’Meanwhile, there are elections to be fought and the nation won urgently back to the inclusive path. For that, Nehru's analysis of 1936 needs to be combined with Sonia Gandhi's pragmatism of 2004. We must needs move in the present context from being a "party of inclusion" to becoming once again a "coalition of inclusion".


উত্তরপ্রদেশ সহ পাঁচ রাজ্যের ভোট পরবর্তী পরিস্থিতির প্রভাব আমাদের পশ্চিমবঙ্গে ইতিমধ্যে পড়তে শুরু করেছে। এই বাংলায় আরএসএস পরিচালিত স্কুল নিয়ে নতুন করে বিতর্ক দেখা দিয়েছে। কিছুদিন আগে সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত একটি খবরে জানা যায়, কম খরচে অথবা নিখরচায় আরএসএস পশ্চিমবঙ্গে স্কুল গড়তে চলেছে। এইসব বিদ্যালয়ে আরএসএস সব শিশুকে আধুনিক এবং মূল্যবোধসম্পন্ন শিক্ষা দেওয়া হবে জানান তাঁদের প্রতিনিধি। এই খবরের পরেই রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় হুশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন, রাজ্য সরকার ধর্মের ভিত্তিতে স্কুল চালাতে দেবেনা। সংবাদ মাধ্যম সূত্রে খবর আরএসএস পরিচালিত ১২৫টি স্কুলের বিষয়ে খোঁজ নেয় শিক্ষা দফতর। অনুসন্ধানের পর দেখা যায় ৯৬টি স্কুলই অনুমোদনহীন। ‘নো অবজেকশন’ সার্টিফিকেট ছাড়াই স্কুলগুলি চলছে। রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় ১০ মার্চ বলেন, ‘’ওইসব স্কুলগুলিকে চিঠি দিয়ে জানতে চাওয়া হবে, তারা রাজ্য সরকারের নো অবজেকশন সার্টিফিকেট ছাড়া কী ভাবে স্কুল চালাচ্ছে? কয়েকটি স্কুলকে ইতিমধ্যে চিঠি পাঠিয়েও দেওয়া হয়েছে।‘’ পার্থবাবুর এই বার্তার পরেই সংবাদ মাধ্যম সূত্রে খবর, সংঘের স্কুলপাঠ্য থেকে রামায়ণ, মহাভারত তুলে দিতে হবে। এই মর্মে পশ্চিমবঙ্গ শিক্ষা দফতর নির্দেশ দিয়েছে। রাজ্য শিক্ষা দফতরের এই নির্দেশকে কেন্দ্র করে রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় সরস্বতী শিশু মন্দির, বিবেকানন্দ শিশু মন্দির, সারদা শিশুতীর্থের মতো বিদ্যালয়ে শিক্ষক, শিক্ষিকা এবং পরিচালন সমিতির কর্মকর্তারা প্রতিবাদ কর্মসূচী নিচ্ছেন। বিজেপি সূত্রে খবর সারা দেশে ওইসব বিদ্যালয়ের প্রায় ২০ হাজার শাখা রয়েছে।
বিজেপির সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক রাহুল সিনহা ফোনে জানিয়েছেন, ৫০ বছর ধরে ওইসব স্কুল চলছে। এটা নতুন কিছু নয়। সাংবাদিকরা হয়ত নতুন খবর হিসাবে প্রকাশ করেছে। সংঘ পরিবার পরিচালিত বিদ্যাবিকাশ পরিষদ একটি ট্রাস্ট। রাহুলবাবু বলেন, ‘’এই ট্রাস্টের মাধ্যমে যেসব স্কুল পরিচালিত হয় সেইসব স্কুলে নির্দিষ্ট রাজ্যের পঠন পাঠনের কর্মসূচী মেনে এই শিক্ষাদান করা হয়। রাজ্য সরকারের নয়া ফতোয়ায় কি আছে খোজ নিয়ে দেখতে হবে।‘’
এই সপ্তাহে রাজের একটি প্রথম শ্রেণির বাংলা দৈনিকে এক সাক্ষাৎকারে বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহ বলেছেন, ‘’বিজেপির সঙ্গে আরএসএসের ঘনিষ্ঠ সমন্বয় আছে। উত্তরপ্রদেশেও ছিল, পশ্চিমবঙ্গেও আছে। সেখানে জেলায় জেলায় আরএসএসের সংগঠন দারুণ কাজ করছে। ওদের কাজকর্মের সঙ্গে প্রত্যক্ষ রাজনীতিকে মেলাবেন না। ওরা সমাজসেবায় নিয়োজিত। বিজেপি এই সমাজসেবায় বিশ্বাস করে।‘’       
প্রদেশ কংগ্রেসের প্রবীণ নেতা দেবীপ্রসাদ রায়ের কাছে জানতে চেয়েছিলাম রাজ্যে আরএসএসের এই ধরণের আগ্রাসী ভূমিকার সঙ্গে কংগ্রেস কিভাবে লড়বে? ডিপি রায় বলেন, ‘’অতীতে কংগ্রেসের ভাবাদর্শ প্রচারের জন্য স্কুল ছিল। যেমন ‘বাপু সদভাবনা ট্রাস্ট’। আমি তখন এআইসিসি সচিব ছিলাম। নির্মলা দেশপান্ডেকে মাথায় রেখে নতুন করে এই স্কুলের কথা ভাবা হয়েছিল। দিল্লিতে মধুবনে ডঃ কামরা যে স্কুল চালাতেন সেই মডেল সামনে রেখে কেন্দ্রীয়ভাবে করার জন্য প্রস্তাব দিয়েছিলাম। বিক্ষিপ্তভাবে গাঁধিয়ান ব্যক্তিরা যেসব স্কুল চালাতেন। এছাড়াও ছিল শিশুকিশোর ভাবনাকে সামনে রেখে ‘বালসেবাদল’, সব পেয়েছির আসর, মৌমাছি, মণিমেলা, ক্লাবব্যান্ড ইত্যাদি। এইসব প্রতিষ্ঠানে মুক্তমনের কিশোর বাহিনী গড়ে তোলা হত। ২০০১ সালের জনগণনা অনুযায়ী ৪০ এর নীচে ৬৫ শতাংশ যুব সম্প্রদায়। ২৫ এর নীচে ৪০ শতাংশ। ১০-১৯ বছর বয়সী ২৩০ মিলিয়ন। এদের কাছে কংগ্রেস পৌঁছতে না পারলে গাঁন্ধিজি এবং পণ্ডিত নেহরুর স্বপ্ন অধরা থেকে যাবে। ‘সবলা’ নামে যে প্রকল্প ইউপিএ সরকার এনেছে সেটা খুবই ভালো প্রকল্প। এইসব প্রকল্পের অভিমুখ ঠিক করা দরকার ছিল। বেসরকারি গাঁধিবাদী প্রতিষ্ঠানগুলিকে সমর্থন করা এবং সুযোগ দেওয়া উচিত ছিল। যেটা করা হয়নি। এখনও সময় আছে যদি আমরা নতুন করে ভাবতে চাই।‘’
পশ্চিমবঙ্গের বিরোধী দলনেতা আব্দুল মান্নান ব্যক্তিগত আলাপচারিতায় বললেন, ‘’আরএসএসের জন্মলগ্ন থেকে আমরা বিরোধী। নেহরু বিরোধিতা করেছিলেন। ইন্দিরা গাঁধি ব্যান করেদিয়েছিলেন। লড়াই চলবে। তৃণমূল কংগ্রেস বিজেপির নৌকায় পা দিয়ে চলছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে রাজনৈতিক মূল্যবোধেরও পরিবর্তন হয়েছে। তাই নতুন সংস্কৃতির সঙ্গে বোঝাপড়া করেই আমাদের আরএসএসের সঙ্গে লড়াই করতে হবে। কংগ্রেসের সংস্কৃতিকে মাথায় রেখে।‘’
মান্নান সাহেব আরও বলেন, ‘’উত্তরপ্রদেশে যে রসায়ন কাজ করেছে, পশ্চিমবঙ্গের ধর্মনিরপেক্ষ মাটিতে তা করবে না। রাজ্যের মানুষ বিজেপি-তৃণমূলের গোপন আঁতাত বুঝতে পেরে কংগ্রেসের দিকেই আসবেন।‘’     
আরএসএসের স্কুল প্রসঙ্গে সিপিএম কি ভাবছে? সিপিএম দলগতভাবে কোনওদিন স্কুল চালিয়েছে এমনটা কেউ মনে করতে পারছেন না। তবে মার্কসবাদী পাঠচক্র ছিল। দেশ স্বাধীন হওয়ার আগেও ছিল পরেও বিভিন্ন কমিউনে এইসব পাঠচক্র চালাতেন বামপন্থী ঘরানার উচ্চশিক্ষিত সংগঠকরা। কিন্তু সরকারিভাবে এই ধরণের বিদ্যালয় পরিচালনার বিরোধী সিপিএম। দলের রাজ্য কমিটির সদস্য এবং দক্ষিণ ২৪ পরগণা জেলার সম্পাদক শমীক লাহিড়ী বললেন, ‘’আমাদের দল ওই ধরণের কোনও বিদ্যালয় করে না। আমাদের দলের কর্মসূচীতে সে কথা বলা আছে। আপনার প্রশ্নের উত্তরে জানাই, দিল্লিতে কমরেড হরকিষেণ সিংহ সুরজিতের নামে যে প্রতিষ্ঠান হয়েছে সেখানে দলের শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। আরএসএসের মতো কোনও বিদ্যালয় করার পরিকল্পনা আমাদের দলে নেই। আমাদের দল ওই ঘরানায় বিশ্বাস করে না।‘’
২০০৯ সালের পর পশ্চিমবঙ্গের আর্থসামাজিক চিত্রপটে অসংখ্য ক্ষতচিহ্ন সমাজ বিঞ্জানীদের নজরে আসে। সেইসব অতীত থেকে পাওয়া ক্ষতচিহ্ন আমদের রাজ্যের সাধারণ মানুষের সামাজিক জীবনকে এফোঁড় ওফোঁড় করে দিয়ে গেছে। বাঙালির যে মূল্যবোধ সেই মূল্যবোধে অচেনা এক শক্তি আমাদের সবলে ধাক্কা মেরেছে। অবক্ষয়ের পাহার প্রমাণ সমস্যার মধ্যে ছিল স্বাস্থ্য, শিক্ষা, শিশু পাচার, নারী পাচার, কালো টাকা প্রভৃতি। দ্বিতীয় দফায় রাজ্যের দায়িত্ব নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শক্ত হাতে দক্ষ প্রশাসকের মত বিষয়গুলিতে নজর দিয়েছেন। রাজ্যের অতীতের কথা আমি সম্প্রতি পড়লাম প্রাক্তণ মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের কলমে।
‘ফিরে দেখা’ দ্বিতীয় পর্ব বইয়ে প্রাক্তণ মুখ্যমন্ত্রী লিখছেন, ‘’.........বাঁচার উপায় নেই। খাদ্যে ন্যুনতম ক্যালরির অভাব। বাসস্থান, রাস্তাঘাট, শিক্ষা, পানীয় জল, স্বাস্থ্যের ভগ্নদশা এই গ্রামগুলির সাধারণ বৈশিষ্ট। এখানেই সবচেয়ে গুরুত্ব দিয়ে দারিদ্র দূরীকরণের কাজ চাই— নির্দিষ্ট, স্বল্পমেয়াদী ও দীর্ঘস্থায়ী কর্মসূচীর ভিত্তিতে। এই গ্রামগুলিতেই গরিবদের জন্য নামমাত্র মূল্যে ২ টাকা কেজি দরে চাল ও গম রেশনে দেওয়া শুরু হয়। স্কুলের শিক্ষা অবৈতনিক, দুপুরে খাওয়া এবং ছাত্রীদের বিনামূল্যে সাইকেল দেওয়া শুরু হয়েছিল। একবার গ্রামাঞ্চলে থাকাকালীন শুনলাম এখানে সবে মিড-ডে মিলের কাজ শুরু হয়েছে। লাল মাটির রাস্তার শেষে প্রাথমিক স্কুলের বাড়ি। একতলা। পর পর ৬টা ঘর। সবকটায় ভর্তি ছাত্রছাত্রী। এখন ৯৯ ভাগ ছেল-মেয়ে স্কুলে আসছে। মাস্টারমশাইদের বসার ঘর নেই। পেছনে একটা টিউবওয়েল। খোলা জায়গায় পর্দা টাঙিয়ে সবে ভাত হয়েছে। ডাল আগেই হয়েছে। আর আছে কুমড়ো, আলু, পিঁয়াজ। বাচ্চারা ছোটাছুটি করে খেতে বসেছে। মহা আনন্দে। কারণ পেটে ক্ষুধা। এই ক্ষুধা না মিটিয়ে কিসের পড়াশুনো? মাস্টার মশাইরা বললেন, ‘খাবার পরে পড়াশোনায় মনযোগ বেড়েছে।’
আমি সুন্দরবনের স্কুলের মেয়েদের সরকারের দেওয়া সাইকেল হাতে নিয়ে মুখ-চোখ দেখেছি। তাঁরা বিশ্বাস করতে পারেনি। এবার কষ্ট করেও পড়াশোনা শেখা চলবে। আত্মমর্যাদা নিয়ে। আমার মনে হলো এটাতো আগেই প্রাপ্য ছিল- কেন দেরি করলাম? এইসব কর্মসূচী রুপায়নের জন্য দুটি বিষয়ের ওপর জোর দিয়েছি। প্রথমে, সরকারের কর্মীবাহিনীর সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে সাক্ষাৎ প্রয়োজন, এরপর সরকারি সিদ্ধান্তগুলির ব্যাখ্যা করতে হবে।‘’ পৃষ্ঠা- ১৬
শেষপর্বে ফিরে আসা যাক ‘ইনক্লুসিভ কোয়ালিশন’ নামক বাক্য বন্ধে। দেশের স্বার্থে সকলের প্রয়োজনে এবং মানবতার দাবিতে পশ্চিমবঙ্গে ডাঃ বিধানন্দ্র রায়ের আমলেও বিরোধী এবং সরকারের একসাথে চলার কথা পড়লাম অশোক কুমার বাগচির লেখা ডঃ বিধানচন্দ্র রায় ‘এ জুয়েল অব ইন্ডিয়া’ (এশিয়াটিক সোসাইটি, জুন, ২০০৪) বইটিতে। অশোকবাবু তাঁর বিশ্লেষণী দৃষ্টিতে ‘শ্রী জ্যোতি বসু অ্যান্ড ডঃ রায়’ পরিচ্ছদে লিখছেন।
‘’………….’Once Dr. Ray called me and expressed the concern of refugees from East Bengal after the partition of India. He angrily criticized the neglect of the center on East Bengal refuges. I am bound to admit that he criticized the Central Government plainly without any expression of anger or disrespect.’
Sri Jyoti Basu admired the formation of the Bengal Relief Team during the Second World War by Dr. Ray. He and Comrade Muzaffar Ahmed signed the paper. He was concerned with the proper looking after jailed prisoners.
Dr. Ray tried his utmost to make a settlement with the MLAs of opposition legislators and the Congress MLAs.
He introduced the use of microphone during the Indian conflict with China, in favour of the opposition.

During the agitation by school teachers of West Bengal, the government ordered for the arrest and confinement of Jyoti Basu. Dr. Ray prevented his arrest while Sri Basu took refugee in the assembly house.’’ P- 44/45.