Wednesday, 23 August 2017

মানবতার পক্ষে আছি অধর্মে নেই জিরাফেও নেই

মানবতার পক্ষে আছি অধর্মে নেই জিরাফেও নেই: 

প্রকৃতি তোমার চিরনন্দিত অপরূপ শোভা তুমি কেন লুকিয়ে রাখতে পার না? অতি সাধারণ জীবনের যেটুকু অভিঞ্জতা হয়েছে, যৌবনের বিহান বেলায় প্রথম চোখের ভাষায় বিহার, ঝাড়খন্ড, অসম, ওড়িশা, মেঘালয় এই কয়েকটি পাহাড়তলীর রাজ্য একসময় দেখেছি। উত্তর প্রদেশ, উত্তরাখণ্ড, লঝমন ঝোলা, হরিদ্বার দেখেছি। আহা কি সে অপরূপ সৌন্দর্য। অকৃপণ সবুজের মায়াময়তায়, মেঘতলির সদাহাস্য কুঠুরি খুলে বসে আছে অচেনা এক নিষ্পাপ কুমারী নারী। অতি সন্তর্পণে ছুঁয়ে বলে আমি তোমার সেই মেয়ে। এসো আমাকে আলিঙ্গন করো। পাশে ঝোরা আছে। নদী আছে, গঙ্গা আছে। ছুঁয়ে যাও আমাকে, সব কলঙ্ক পাপ ধুয়ে যাবে। আমি আজ তোমার প্রেমিকা হব। ভালোবাসার পাহারি জংলা রঙের ভেলা নিয়ে বসে আছি। কত রঙের প্রজাপতি উড়ছে দ্যাখ আকাশে বাতাসে। রঙিন প্রজাপতি গাছের পাতায় পাতায় ঘুরছে নব যৌবনের বাতায়ন খুলে। গাছের ডাল, পাতা, ফুলের রেণু নিঙরে প্রাগে পরাগে সম্মেলনের কবিতার চরণ লেখে। পয়ার ছন্দে। প্রেম এসে ফিরে যায় একাকি গহন বনে। এসো তুমি জলে জঙ্গলে। বলো, হে বন্য নারী আজ আমি তোমার প্রেমে তৃপ্ত। পাত্র উজাড় করে ভরিয়ে দাও আমায়। আহ্বান করে অচেনা বন্য সুন্দরী তনয়া যেন বলছে, তুমি পুরুষ, তোমার ক্লান্ত শ্রান্ত ঘর্মাক্ত শরীর দেখলে আমার নারীত্ব আমাকে আরও শান্ত করে রাখে। আমার ঘৌমটা খুলে অদেখা সুন্দরকে উজ্জ্বল করো। প্রজ্বলিত করো। অদেখা অচেনা সুন্দরের কাছে আজ তোমাকে আত্মসমর্পণ করতেই হবে। আমি তোমার সেই বন্য নারী।        
সপ্ততরীর ঢেউ ভাঙা অকৃত্রিম মেঘমল্লারের নৃত্যে ‘তাতা থৈ থৈ, তাতা থৈ থৈ’ ছন্দে রাজপ্রাসাদের রাজকীয়তা নিয়ে ডেকে পাঠাও সকলকে। সবুজ বৃক্ষরাশি কখনও বৈশাখী ঝঞ্ঝায়, কাল বৈশাখীর উথাল পাথাল আন্দোলনে প্রলয়ের বড় গল্প শোনায়। অবিরাম বৃষ্টি শেষে ‘টুপ টুপ, টুপ টুপ’ পাহাড়ি ঝোরার চেনা অচেনা খিল খিল হাসি। কে একজন প্রশ্ন করে ‘এ বাবু হেথাকে কখন এলি?’ শরতের এলোমেলো মেঘ সাদা সাদা বকেদের ডানায় ডানায় আবার সে ফিরে ফিরে আসে, ছোট নাগপুরের আদিবাসী গ্রামের ‘আরণ্যক’ উপাখ্যানের বহু বর্ণনায়। হে আমার অচেনা প্রকৃতি তোমার প্রলয় রুদ্র মুরতি সৃষ্টির বন্ধন ভেঙ্গে আগুনে পোড়া মানবতা ছুঁয়ে যায়।
যে আকাশে বাদলের গান শুনি সেই আকাশে সাদা কালো, লাল নীল, হাজারো রঙের পাখ পাখালির কলরব। চেনা অচেনা আকাশেও দবন্দ থাকে, অসীম আদিগন্ত কালো মেঘেদের অন্তরালে অবিরাম আকাশ দখলের সচেষ্ট অভিলাষ থাকে। ওরা পক্ষীরাজের দেশের ভাষায় কথা বলে। এতবড় আকাশ, প্রকৃতি সেও তোমার স্বপ্ন দেখানো ঘুম ভাঙা ভোরের দিগন্ত বলয়। এই বলয়ে পাখিদের দবান্দিক অবলোকন আহ্বান করে দেশ বিদেশের পরিযায়ী পাখিদের। সাগরের চরাচরে, নদীর বালুকা বেলায়, হ্রদের শীতল উষ্ণতায় পরিযায়ী পাখি অক্লান্ত যাত্রা পথে অধর্মকে শাসন করে মানবতার চড়ুইভাতির আনন্দে। পটুয়া শিল্পীর গ্রাম্যপটে ছবি হয়ে উড়ে বেড়ায় তাঁরা। বলে আমরা আকাশেও আছি, মাটিতেও আছি, তোমার আঙিনায় থাকব। এই জগৎসভায় পরিক্রমা করতে করতে বারে বারে বলি জিরাফের পীঠে বসতে চাইনা। হাঁটব জিরাফের পথরেখায়। গ্রাম্য পটুয়ার আঁকা আলভাঙা সড়কের পল্লবিত পক্ষীবালিকার নূপুরের তালে তালে। বলব অধর্মে নেই মানবতায় আছি।
সেদিন অনেকদিন পর এপাড়া ওপাড়া ঘুরে বইপাড়ায় গিয়েছিলাম। পরিযায়ী পাখিদের মত ঘুরতে ঘুরতে যাযাবর জীবনটা চিনতে কলকাতার প্রাচীন বৃক্ষরাশির ছায়াতলে গিয়ে দাঁড়িয়েছিলাম। অতীতের কথকতা, স্মৃতি, ভাঙা ভাঙা ছন্দে হাঁটি হাঁটি এসে আলিঙ্গন করছে। আমি উদাস চাউনিতে হেরিতেছি ক্লান্ত, পথভ্রস্ট আহত কবুতরের মতো। কলেজস্কয়ারের পূর্বদিকের গেটের সামনে তখন কিছু লোক গোল হয়ে দাঁড়িয়ে। সামনে কিছু একটা দেখছে। ভিড় দেখলেই যেমন আম বাঙালি ভিরে যায়। দেহাতী বাঙালিদের মতো আমিও গলা ঢুকিয়ে দিলাম। ভিড়ের গলতা দিয়ে দেখলাম আমাদের সমবয়সি একজন লোক হাতে একটা আড়াই ফুট লম্বা পুতুল নিয়ে কি সব দেখাচ্ছে। পুতুলটা পুরনো নতুন কাপড়ের ছোট ছোট টুকরো সেলাই করে তৈরি করা হয়েছে। পুতুলের পোশাকে বোঝা গেল পুতুলটি পুরুষ চরিত্র। জিনসের প্যান্ট। দুটো পকেট দেওয়া জলপাই রঙের জামা। জামার একটা পকেটে ভারতের ‘জাতীয় পতাকা’-এর স্টীকার আলাদভাবে সেলাই করা আছে। কোমরে চওড়া চকলেট রঙের বেল্ট। পুতুলের মুখটায় সার্কাসের ‘জোকার’-এর মতো করে রাঙানো। যে লোকটা পুতুলটা ধরে আছে তাঁর বাবরি চুল। পেল্লাই বড় এক দাড়ি। পোশাক পড়ে আছে সেও এক বিচিত্র। গায়ে পুরনো দিনের বাঙলা সার্ট। গায়ক হেমন্তবাবুরা যেমন সার্ট ব্যবহার করতেন। ঢোলা পায়জামা। পায়ে কাঠের খড়ম। লোকটার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা ছেলেটা লাঠিতে বাঁধা একটা প্ল্যাকার্ড ধরে আছে। প্ল্যাকার্ডে লেখা, ‘মানবতায় আছি, অধর্মে নেই জিরাফেও নেই’। নীচে ছোট করে লেখা ‘তিরপিতা’। বুঝলাম ‘তিরপিতা’ মানে গোষ্ঠীর নাম।     
লোকটা বলছে, ‘এই দ্যাখেন দাদা, দিদিরা এই পুতুলটো এখনও অর দ্যাশের ভাষায় দশের ভাষায় কথা বুলে। ইটো পুতুল নাচের ইতিকথা লয়। আমি মানিকবাবুর ভাষায় কথা বলতে পারিয়ে না। আমার পুতুল কি বুলছে আপনারা শুনেন।’
লোকটা জানতে চাইল, ‘গোবরা তুমাহার বাড়ি কুথায়?’
‘ওই তিরপিতা গাঁয়ে। কাঠ ব্যবসায়ী হর্ষবাবুদের পাড়ায়।’ পুতুল উত্তর দিল।
লোকটা জানতে চাইল, ‘গোবরা তুমহার লিখা পড়া কতদূর?’
‘আঞ্জে বিপিএল কার্ড নাইখো। পঞ্চায়েতে বাবুরা বুললে বিপিএল কার্ড না থাকলে স্কুলে পড়া চলবে না। আমি বুললাম আমার বাপের বিদ্যাসাগর ছিল না আমাহার ‘বিপিএল কার্ড’ লায় বাবু। আর স্কুলে লিলে না।’
‘আচ্ছা গোবরা তুমি এখন কি কাজ কর?’
‘কাজ কুন্ঠি পাব? আমি বামুন-কায়েত, সদগোপ চাষির ছেলা যে আমাকে কাজ দিবে? আবার দ্যখেন আহমি সিডিউল কাস্ট লই। দলিতও লই। বাপের পদবী ছিল ‘মাল’। তবে আমার বাপ একদম মাল চিনতে শিখেনি। ওই লেগি আমার এই হাল হুলো কাকা। একশো দিনের মাটি কাটার কাজেও কেউ লিছে না। আমাকে কাজ দিলে আমি নাকি ‘পুকুর চুরি’-এর কথা সবাইকে রসিয়ে রসিয়ে বুলি দিব?’ এই কথা কি ঠিক? আপনি বুলেনতো কাকা? আমি কি পঞ্জজনের ঢুলি? ধান্দা আমিও বুঝি। মাগ্যিগণ্ডার দ্যাশে পাঁচ দশ টাকা কমিশন সব্বাই খেছে।   
‘আমাকে আজ কাকা বলছ ক্যানে? ঠিক আছে, ঠিক আছে, তুমি কাজ না করলে সারাদিনের খাওয়া খরচ, বাড়ি ঘর মেরামতির টাকা, চিকিৎসার খরচ এইসব কুথা থেকি পেছ?’
‘ এই যে আপনার সঙ্গে সঙ্গে ঘুরছি। পাঁচটো কথা বুলছি। সাপের পাঁচ পা দেখার কথা লয়। ওই আপনার মতো বাবুদের কথা। সেই কথা শুনি গাঁ গঞ্জের দাদা দিদিরা আনন্দ পেছে। তারপর অরা যা দিছে তার ভাগ আমাকে কিছু দিছেন আপনি মামা। তবে কিনা ফাউল করছেন আপুনি।’
‘তুমি গোবরা একবার ‘কাকা’ বুলছ, একবার ‘মামা’ বুলছ ক্যানে? আমি ঠিক বুঝতে পারছি না। আর ফাউল কি করলাম?’
‘আপনি বুলাছিলেন আপনার একশো টাকা আয় হলে তিরিশ টাকা আমাকে দিবেন। একশো তিরিশ টাকা আয় হলেও তিরিশ টাকা আহমাকে দিবেন। আপনি কি করছেন? আমাকে তিরিশ টাকা দিছেন আপনি? ১২ টাকা দিছেন। তবে ব্যাঙ্কের এটিএম থেকে ১২ টাকা পেছি। ব্যাঙ্কের অ্যাকাউন্ট করি দিয়াছেন। আর ১৮ টাকা ভাউচার লিখে ছিঁড়ে দিছেন, ভাউচার ছিঁড়ে দিছেন। ১৮ টাকা আপনি পকেটে পুরছেন। ইটো ফাউল লয় জামাইবাবু? পিএফ দিছেন না, ইএসাই করি দেননি। তবু আহমার এক চোখ লিং আপনার সাথে কাজ করছি। এই গুলান ফাউল লয় জামাইবাবু?’
‘সে না বুঝলাম, তা এতসব মেনে লিং আমার সঙ্গে কাজ করছ ক্যানে শালো?’
‘এইবার ঠিক বুল্লেন, কলকাতার যে খানে যেছি সবখানে আপনাদের লোক। আমার বা দিকে দ্যাখেন যে লোকগুলান বসি আছে ওইখানে আপনার মতো জামাইবাবু অনেক পাবেন। আবার ডান দিকে দ্যাখেন ওইখানে মামা,কাকাদের দল পাবেন জামাইবাবু।’  
এতক্ষণ যে সব কোতুহলী মানুষ ‘পুতুলের কথা’ শুনছিল তাঁরা অনেকেই বিছিয়ে দেওয়া চাদরে পাঁচ টাকা, দশ টাকার নোট, একটাকা দুটাকা, পাঁচ টাকার কয়েন ফেলছিল। এদের মধ্যে থেকে একজন বলে ফেলল ‘এই যে পুতুলের মালিক তুমিও বাংলার বাইরের ব্যবসা শিখে গেছ বস?’
ভিড় পাতলা হতে থাকে। মালিক ধমক দিয়ে পুতুলকে বলে, ‘কি সব বুলছ তুমি আজ গোবর? এবার কি করবে? ভিড় যে পাতলা হুং গেল?’
‘আঞ্জে কি আর করব? হর্ষবাবু বুলাছিল কলকাতার সব রাস্তা থিকা চেতলা যাওয়ার ৩৩ নম্বর দোতলা বাস পাওয়া যায়। আমি ইবার ওই বাস ধরি ‘নবান্ন’ দেখতি যাব। পুলিশবাবুরা ভিতরে ঢুকতে দিলে পঞ্চুকাকুকে বুলব আহমাকে তিনটা কার্ড দেন। একটো ‘সিডিউল কাস্ট’ কার্ড, একটো কাজ পাওয়ার জব কার্ড আর একটো ‘হেলথ কার্ড’। আমার চোখে ‘ন্যাবা’ হলছে।’    
পুতুলের মালিক এরপর আর কথা না বাড়িয়ে গোবরকে মাটিতে শুইয়ে দিয়ে তখনও দাঁড়িয়ে থাকা কিছু মানুষের উদ্দেশ্যে বলল, ‘গোবরের শরীরটা ভালো নেই। আজ ওকে একটু বিশ্রাম দিন। আবার একদিন আমরা ওর কথা শুনব।’                      

’                

Tuesday, 22 August 2017

গ্রহণ

গ্রহণ: 
একটা সময় ছিল পৃথিবীটা
ভালো করে চিনতাম না!
এ কি এমন কথা?
আটপৌরে মানুষ মানুষের মত বাঁচে।
একটা সময় ছিল ঘর্মাক্ত শরীরটা
যৌন গন্ধের পরশ পশমে—
বর্ধিষ্ণু বাড়ির হুলো বিড়াল হতে চাইত!
পুরনো দর্শনের ভাষান্তর করে নাও—
আনন্দ পেয়েছ, আনন্দ পেয়েছি
বলেই সেদিন বৃন্ত ছেঁড়া
ফুলের পাঁপড়ি, বইয়ের ভাঁজে......
না না ছোট্ট টিলার খাঁজে রেখে এসেছিলাম!
ফুল ফুটেছে, ফুল ফুটেছিল
আবার কি সেদিনের মত
রাত জাগা শিশিরে ভিজে গোলাপ ফুটবে?
একটা সময় গোলাপের জন্ম বৃত্তান্ত জানতাম না।
একি এমন কথা?
ঘরপোড়া মানুষ মানুষের মত
বাঁচতে চায়।
সূর্যের আগুনে আজ তাপ উত্তাপ নেই,
চুলার নিষ্পাপ আগুনে সেদিনও
হাত ভিজিয়ে নিতে পারতাম—
দাঁড়িয়ে থেকনা, রোদ্দুর চিনলে
গ্রহণে কার কি এসে যায়?    

Wednesday, 9 August 2017

হুজুরে হাজির নয় ভাঙা গণতন্ত্র হাঁটছে

হুজুর হাজির নয় ভাঙা গণতন্ত্র হাঁটছে: 

ভারতে সম্প্রতি সদ্য রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হয়ে গেল। সেই নির্বাচন নিয়ে যে প্রেক্ষাপট ভারতের উচ্চ শিক্ষিত, মধ্য শিক্ষিত, কম শিক্ষিত এবং লেখা পড়া না জানা ভারতীয় নাগরিক দেখল সেটা আলোচনার বিষয় কেন হবেনা? চলুন বর্তমানকে একবার ফিরে দেখি। বিজেপি নামক দলটির ভারতে উত্থান নেহরুর বহু আলোচিত মিশ্র অর্থনীতির হাত ধরে। নেতৃত্ব দিয়েছিলেন প্রাক্তন জনসংঘ নেতা এবং বিজেপি নামক দলটির প্রথম প্রধানমন্ত্রী অটলবিহারী বাজপেয়ী। এই অটলবিহারী বাজপেয়ীর প্রদর্শিত পথেই হাঁটছেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। উদার অর্থনীতি তথা বিশ্বায়নের উত্তর প্রজন্মের দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। ভারতীয় গণতন্ত্রে কংগ্রেসের নেতৃত্বেই আমরা পেয়েছি উদার গণতন্ত্র, উদার অর্থনীতি এবং উদার সংস্কৃতি। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ডঃ মনমোহন সিংহের নেতৃত্বে ভারতীয় অর্থনীতি বিশ্বে নিজের মর্যাদা অর্জন করতে পেরেছে। ‘হুজুরে হাজির’ অর্থনৈতিক ব্যবস্থা, সাংস্কৃতিক রাজনৈতিক বাতায়ন টপকে আজ ভারত নামক দেশটি স্বতন্ত্র একটি দেশ। একথা আমারমতো অরবাচিনের কলমে আসলেও ভারতের সব দলের, বিভিন্ন মতাদর্শের পণ্ডিতজনেরা স্বীকার করছেন।
মাননীয় বর্তমান রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দের নাম বিজেপি তথা এনডিএ শিবির থেকে ঘোষণা হওয়ার পর কংগ্রেসের নেতৃত্বে দলিত নেত্রী, ইউপিএ জমানার দ্বিতীয় দফার অধ্যক্ষ মীরা কুমারকে প্রার্থী করে সতেরোটি দলের বিরোধী জোট। নির্বাচনে জয়পরাজয় থাকেই কিন্তু এবছর ভারতের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভারতীয় গণতন্ত্র অনেকটা পথ হেঁটে এসে আধুনিক হয়ে উঠতে পারছে। দেশীয় রাজনীতির বর্তমান সময় আমাদের সেই আবৃত্তি করতে আহ্বান করছে বলেই মনে হয় । নিরপেক্ষ কলমচির টেবিল থেকে এমন উপলব্ধি আমার হয়েছে। পূর্বের পরিস্থিতি যদি খুঁজে দেখি তাহলে ইতিহাস বলছে অটলবিহারী বাজপেয়ীর সময় রাষ্ট্রপতি-পদে এ পি জে আব্দুল কালামকে সমর্থন করা নিয়ে বামেদের সঙ্গে কংগ্রেসের মতপার্থক্য দেখা দেয়। কলকাতা থেকে প্রকাশিত সেই সময়ের একটি বহুল প্রচারিত বাংলা দৈনিক লিখেছিল, ‘’অবশেষে কংগ্রেসও রাষ্ট্রপতি-পদে এ পি জে আব্দুল কালামকে সমর্থন ঘোষণা করল।‘’
একবিংশ শতাব্দীর প্রথম দশকের দ্বিতীয় বছরে কিরকম রাজনৈতিক অভিঞ্জতা ভারতবাসীর হয়েছিল? অর্থনৈতিক সংস্কারের জন্য বেছে নেওয়া হয়েছিল দেশের মেট্রোপলিটন শহরগুলি। যেমন দিল্লি, কলকাতা এবং চেন্নাই। বাজপেয়ীর নেতৃত্বাধীন এনডিএ সরকার কিছু উল্লেখযোগ্য উন্নয়নের কাজ করলেও চতুর্দশ লোকসভা নির্বাচনে সাফল্য পায়নি। তার কারণ দেশের ধর্মীয় ভারসাম্য রক্ষা করতে বাজপেয়ী সরকার ব্যর্থ হয়। দেশের যে চিরাচরিত বিশ্বাস, বিভিন্ন জাতি, সম্প্রদায় পাশাপাশি বাস করেও বৈচিত্রের মধ্যে ঐক্যের আঙিনায় আলপনা আঁকা ভারতের মানচিত্রের সীমানা ভেঙ্গে পড়েছিল। সামাজিক ঐক্যের সুর কেটে গিয়েছিল। সনাতন গ্রাম ভারতের যেটা ছিল একান্ত নিজস্বতা। সামাজিক ঐক্যের দায়িত্ব কেন্দ্র অথবা রাজ্য সব সরকারকে নিতে হয়। ভারতীয় প্রাচীন সভ্যতার বহুবর্ণের সেই সহিষ্ণুতা আজকের ভারতেও প্রশ্নের মুখে এসে দাড়িয়েছে। 
দ্বিতীয় দশকের শেষ প্রান্তে ভিন্ন ধরণের অভিঞ্জতার মধ্যে দিয়ে আমরা যাচ্ছি। এখানেই খুব সম্ভবত ভারত নামক দেশটির গণতন্ত্র নিজ স্বকীয়তায় পড়শি দেশের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করেই আধুনিক গণতন্ত্রের উদাহারণ হয়ে উঠতে চাইছে। আজ ৯ অগস্ট প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর উদ্যোগে ‘ভারত ছাড়ো’ আন্দোলনের ৭৫তম বর্ষপূর্তি উদযাপন করছে এন ডি এ সরকার। সংবাদ মাধ্যম সুত্রের খবর ২০১৭ সালের ৯ অগস্ট সংসদে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী শপথ নেবেন দুর্নীতি, সন্ত্রাসবাদ, আবর্জনা, দারিদ্র, জাতিভেদ ও সাম্প্রদায়িকতাকে ভারত ছাড়া করার। প্রধানমন্ত্রীর এই উদ্যোগ নিয়ে শুরু হয়েছে চাপানউতোর। ১৯৪২ সালে গাঁধিজি যে আন্দোলনের সূচনা করেছিলেন সে আন্দোলনের ফলে ব্রিটিশ শাসকদের ভিত কেঁপে গিয়েছিল। ‘ভারত ছাড়ো’ আন্দোলনকে কেন্দ্র করে যে আন্দোলন শুরু হয়, গাঁন্ধিজি চেয়েছিলেন সেই আন্দোলন হবে একটি প্রকাশ্য আন্দোলন বা বিদ্রোহ’। পাশাপাশি তাঁর পরিকল্পনা ছিল ‘যতটা সম্ভব সংক্ষিপ্ত ও ক্ষিপ্র’। ৮ অগস্ট কংগ্রেস অধিবেশনে গাঁধিজি এই আন্দোলনের লক্ষ্য ঘোষণা করেছিলেন। লক্ষ্য ছিল পূর্ণ স্বাধীনতা ছাড়া কোন কিছুই নয়। সেই অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছতে পরাধীন ভারতের জনতার কাছে তাঁর আহ্বান ছিল— ‘হয় স্বাধীনতা না হয় মৃত্যু’।
 তাঁর আরও অভিমত ছিল আন্দোলন পরিচালনার জন্য তিনি নিজে থাকবেন একজন সাহায্যকারীর ভূমিকায়। ইতিহাস বলছে ওইদিন অর্থাৎ ৮ অগস্ট বক্তৃতায় আপসহীন সংগ্রামের আহ্বান জানানোর পরে পরেই গাঁধিজি বড়লাটের সঙ্গে আলোচনার প্রস্তাবও দিয়ে রাখেন। কিন্তু তিনি ভাবতেও পারেননি যে ব্রিটিশ সরকার তাঁকে গ্রেপ্তার করতে পারে। আগের দিনের বক্তৃতার পর ৯ অগস্ট ভোর চারটার সময় তিনি ঘুম থেকে ওঠেন নিয়ম মতো প্রার্থনা করার জন্য। ওই কাক ভোরেই তিনি তাঁর একান্ত সচিব মহাদেব দেশাইকে বলেন, ‘গতকাল রাতের বক্তৃতার পর তাঁরা আমাকে গ্রেপ্তার করবে না।’ ঘটনা ঘটল একদম উল্টো। ওইদিন সকালেই পুলিশ আসে গাঁধিকে গ্রেপ্তার করতে। গাঁধিরমতো দূরদৃষ্টি সম্পন্ন ব্যক্তিও ভাবেত চাননি তাঁকে ব্রিটিশের বড়লাট গ্রেপ্তার করতে পারে। অগস্ট আন্দোলনের শক্তি কতটা ছিল এই ঘটনা থেকে বোঝা যায়।
এই ঘটনার আগে ১৯৪২ সালের ১০ই মে গাঁধিজি বলেছিলেন, ‘’The withdrawal of British rule from India was a supreme act to the realization of which I must devote my whole energy.’’   গাঁধিজি ১৯৪২ সালের ১৪ জুলাই ওয়ার্ধায় অনুষ্ঠিত কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির সভায় ‘ভারত ছাড়ো’ আন্দোলন শুরু করার জন্য নিজের সঙ্কল্পের কথা বলেন। ওইদিন তিনি সাংবাদিকদের বলেন, এই প্রস্তাব প্রত্যাহার করে নেওয়া অথবা শাসকদের আরও একবার সুযোগ দেওয়ার কোনও সম্ভবনা নেই। আমি বলছি চূড়ান্তভাবেই এটা শাসকের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য বিদ্রোহ। গাঁধিজির ‘ভারত ছাড়ো’ আন্দোলনের ডাকে সাড়া দিয়ে কাতারে কাতারে মানুষ আন্দোলনে নামে। ৯ অগস্ট বোম্বাই শহরের ‘গোয়ালিয়া ট্যাঙ্ক ময়দানে’ এবং শিবাজী পার্কে সভা শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ব্রিটিশ পুলিশ নিরস্ত্র মানুষের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। ব্যপক লাঠিচার্জ করে এবং কাঁদানো গ্যাস ব্যবহার করে। অনেকেই গ্রেপ্তার হন। পুলিশের গুলিতে ৫ জন কংগ্রেস কর্মী নিহত হন। আহত হন ২০-২৫ জন কংগ্রেস কর্মী। বোম্বাই শহরেই এক সপ্তাহে পুলিশের গুলিতে মৃত্যু হয় ৩৫ জন সত্যাগ্রহী কংগ্রেস কর্মীর। আহতের সংখ্যা ছিল ৫০০ এরও বেশি। কলকাতায় রিপন কলেজ, বঙ্গবাসী কলেজ, তৎকালীন যাদবপুর কলেজ এবং কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা বিক্ষোভ আন্দোলনে ব্যাপকভাবে সামিল হয়।
দেশ স্বাধীন হওয়ার সময় ভারতের কোন দলের কি ভূমিকা ছিলো সেই নিয়েই নতুন করে শুরু হয়েছে বিতর্ক। কংগ্রেস দল খুব স্বাভাবিকভাবেই উত্তর প্রজন্মের কাছে দায়বদ্ধ। এই প্রজন্মের ছাত্র যুবদের কংগ্রেসকে বলতেই হবে, ‘ভারত ছাড়ো’ আন্দোলন ছিল গাঁধিজির নেতৃত্বে কংগ্রেস ঘরানার আন্দোলন। সেইমতো কংগ্রেস গত কয়েকদিন ধরে সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যপক প্রচার করে। ‘ক্যুইট হেট মুভমেন্ট’ নামে একটি আন্দোলের সূচনাও একবিংশ শতাব্দীর ভারতে শুরু হয়েছে। আমরা যারা সোশ্যাল মিডিয়ায় নিয়মিত সংবাদের সঙ্গে থাকি তাঁরা ৮ অগস্ট কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকের ভিডিও ফুটেজ পেয়েছি। সেই সূত্রে খবর, বম্বে অধিবেশন থেকে গাঁধিজি ঐতিহাসিক ‘ভারত ছাড়ো’ আন্দোলনের ডাক দিয়েছিলেন। সেই দিনটিতেই কংগ্রেস কর্মসমিতির বৈঠক করে। দলের সভানেত্রী সনিয়া গাঁধি ওই দিনের সভায় বলেন, ‘’দেশে সংখ্যালঘু দলিত, মহিলা এবং আদিবাসীরা আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। প্রতিদিন মানুষের স্বাধীনতায় হাত পড়ছে। যে সব সমাজবিরোধীরা তা করছে, তাদেরই হাত শক্ত করছে বহুত্ববাদ-বিরোধী মোদী সরকার।‘’      
৯ অগস্ট, ১০১৭ এই দিনের সকালের একটি বাংলা দৈনিকে পড়লাম প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর উদ্যোগে শুরু হওয়া প্রচার নিয়ে কিছু বক্তব্য। দৈনিকটি লিখছে, ‘’যেন মোহনদাস কর্মচন্দ গাঁধিকে পুরোপুরিই কংগ্রেসের থেকে ছিনিয়ে নিতে চাইছেন তিনি। ‘অন্তত ভারত ছাড়ো’ নিয়ে তাঁর উৎসাহ ও আয়োজনের বহর দেখে এমনটাই মনে করছেন  জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিঞ্জানের শিক্ষক সৌম্যজিৎ রায়। ..................সৌম্যজিৎবাবুর বিশ্লেষণ, ‘এটা শুধু জাতীয়তাবাদ বা স্রেফ রাজনৈতিক চাল নয়, নির্বাচনী কৌশলও। এখনকার কংগ্রেস বস্তুত ইন্দিরা গাঁধির তৈরি। মোদী গাঁধিজির কংগ্রেস থেকে আজকের কংগ্রেসের নেতাদের বিচ্ছিন্ন করে দিতে চান। কিন্তু গাঁধিজিই কংগ্রেসের প্রধান আইকন তাঁকে নিয়ে নিলে কংগ্রেস একেবারে দেউলিয়া হয়ে পড়বে।’
সময়ের কেমন সমপতন ভাবুন, ৮ অগস্ট সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলে কংগ্রেসের প্রবীণ নেতা জয়রাম রমেশের সাক্ষাৎকার দেখি। সংবাদ সংস্থাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জয়রাম বলেন, ‘’সাম্রাজ্য গিয়েছে, কিন্তু এখনও অনেকে সুলতানের মতো ব্যাবহার করেন। অস্তিত্বের সঙ্কট চলছে কংগ্রেসে।‘’ উচ্চশিক্ষিত এবং প্রাক্তণমন্ত্রী জয়রাম আরও বলেন, ‘’নরেন্দ্র মোদী, অমিত শাহের ভাবনাকে মোকাবিলা করতে না পারলে অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়বে দল। পুরনো শ্লোগান, মন্ত্র, সমীকরণে আর কাজ দেবে না। দেশ বদলেছে, কংগ্রেসেরও বদল দরকার।‘’
কংগ্রেস দলে কোনও শীর্ষ নেতা বাস্তব নিয়ে ভাবলেও বিতর্ক তুলতে সাহস পাচ্ছিলেন না। কংগ্রেস সহ সভাপতি রাহুল গাঁধি এই কথাটা অনেকদিন থেকে বলতে চাইছেন সম্ভবত। দলের পুরনো ভাবনা চিন্তার খোল নলচে বদলে দেওয়ার সময় এসেছে। মাত্র ৩৭  বছরের পুরনো দল বিজেপি সমস্ত সীমাবদ্ধতা নিয়েও আধুনিক ভারতের কাছে গ্রহণযোগ্য দল হয়ে উঠতে চাইছে। দেশের প্রধান বামপন্থী দল ৫৩ বছরের পুরনো সিপিএম নিজেদের দলে আরও গণতন্ত্রের খোঁজে বারে বারে পরীক্ষা নিরীক্ষায় যাচ্ছে। সিপিএম দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব নিজেদের ভুল শুধরে নিয়ে গত পাঁচ ছ’ বছরে ভারতীয় ঘরানায় দলকে গড়ে তোলার কর্মসূচী নিচ্ছে।  
‘ভারত ছাড়ো’ আন্দোলনের উত্তরাধিকার যে সময় নরেন্দ্র মোদী ছিনতাই করতে চাইছেন সেই সময়কে  মাহেন্দ্রক্ষণ বেছে নিয়ে জয়রাম সঠিক কথাটা বলে দিয়েছেন। দলে স্বাভাবিকভাবেই বিতর্ক শুরু হয়েছে। কংগ্রেসের তাত্বিক নেতা মণিশঙ্কর আয়ার জয়রামকে সমর্থন করে প্রকাশ্যে বলেন, ‘’জয়রাম যে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, তাতে স্পষ্ট তিনি কট্টর কংগ্রেসি। বিভিন্ন মত না শুনলে আবার এগোনোও যাবে না।‘’
সমপতনের আরও একটি ঘটনা দেখুন গুজরাট থেকে রাজ্যসভার ভোটকে কেন্দ্র করে। সেটাও ৮ অগস্টের ঘটনা। কংগ্রেস সভানেত্রী সনিয়া গাঁধির রাজনৈতিক সচিব আহমেদ প্যটেল। দলের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নেতা। তাঁর প্রত্যক্ষ ভূমিকা আমরা খুব কিছু প্রকাশ্যে দেখতে পাই না। কিন্তু তিনি যে কত দক্ষ নেতা সেটা আবার প্রমাণ হয়ে গেল। সব রকমের জল্পনা কল্পনাকে মিথ্যে প্রমাণ করে, বিজেপি সভাপতি অমিত সাহের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে ‘বাপুজি’-এর রাজ্য গুজরাট থেকেই রাজ্যসভার ভোটে জিতে গেলেন আহমেদ প্যাটেল। ৯ অগস্ট সকালের খবরে দেশবাসী জানতে পারল গুজরাট রাজ্য সভার ভোটের খবর। টানটান উত্তেজনা শেষে কংগ্রেস নতুন করে শক্তি পেল।
পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেস দলটিও পিছিয়ে থাকতে রাজি নয়। ২১ জুলাইয়ের মঞ্চ থেকে ঘোষণা করেছিলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ‘বিজেপি ভারত ছাড়ো’। ৯ অগস্ট পশ্চিম মেদিনীপুর থেকে সেই কর্মসূচি শুরু করলেন তৃণমূল নেত্রী। ওইদিনের সভায় মমতা বিজেপির নাম না করে বলেন, ‘’ক্ষমতায় এসে কেউ কেউ মনে করছে ৯ অগস্টের ‘ভারত ছাড়ো’ আন্দোলন তারাই করেছে। স্বাধীনতা আন্দোলনের সময় অনেকের অন্যরকম ভূমিকা ছিল। আমি মানুষে মানুষে ভাগাভাগি করি না।‘’    
ভারতবর্ষ একটি গণতান্ত্রিক দেশ। যে কোনও বহুদলীয় গণতান্ত্রিক দেশের প্রেক্ষাগৃহে বুর্জোয়া, কৃষক, জোতদার, শ্রমিক, মুটে, ক্ষেত মজুর একই নাটক বা সিনেমা দেখে। অনেক সময় শহরে গ্রামাঞ্চলে সাংসকৃতিক অনুষ্ঠানও দেখে। নিজেদের অত্যন্ত স্পর্শকাতর অনুভূতি রুচি ও মূল্যবোধের তারতম্যে হাততালি দেয়, নয়তো শোকে মুহ্যমান হয়ে পড়ে। এই মুহূর্তকে কি বলা যায়? শ্রেণী নিরপেক্ষ মানবিক ইন্দ্রিয়ানুভূতি, শ্রেণী বিভক্ত সমাজে খণ্ডিত এবং সীমিত অনুভূতি? এসবের প্রকাশ আমরা দেখি শুধু কয়েকটি মৌল মানবিক বোধেই সীমাবদ্ধ থাকে। রাজনীতিতে এমনটা হবার নয়। রাজনীতি সম্ভাবনার শিল্প। প্রতি মুহূর্তে গড়ে নিতে হয়। নতুন করে ভাঙ্গতে হয়। নব প্রভাতের সঙ্গীতে গড়ে নেওয়ার অবকাশ খুঁজে নিতে হয়। সেটা করতে না পারলে মেঠো রাজনীতির কচকচানি বাড়তেই থাকে। সতর্ক থাকতে হয় কে বন্ধু কে শত্রু চেনার সময়। রাজনীতি বড় স্পর্শকাতর বিষয়।
প্রখ্যাত উর্দু লেখক সাদাত হাসান মান্টোর লেখা যারা পড়েছেন তারা মান্টোর বহুবার ব্যবহার করা একটি শব্দবন্ধ সম্পর্কে পরিচিত। শব্দবন্ধটি হল ‘দুশমন দোস্ত’। এর অর্থ হল বন্ধুর ছদ্মবেশে আড়াল থেকে শত্রুর কাজ করা। রাজনীতি সামাজিক মানদণ্ডে বিচার করলে আমাদের ‘দুশমন দোস্ত’ সম্পর্কে বারে বারে ভাবতে হবে। না হলে বন্ধুর ছদ্মবেশে ঘরের শত্রু বিভিষণ চিনতে আমাদের অসুবিধায় পড়তে হতে পারে। গত কয়েক দশকে কংগ্রেসে পরিবারে ‘দুশমন দোস্ত’ –এর সংখ্যা কিন্তু অনেক। ‘হুজুর হাজির’ বলার সময় এবং দিন শেষ হয়ে আসছে ভারতে। সামন্ত নেতাদের সামনে সমস্ত দলন পীড়নের অত্যাচার সহ্য করে ‘সোশ্যাল মিডিয়া’ –এর যুগে দলিত মানুষ মুখ খুলছে। স্বাধীনতা চাইছে। কথা বলার, গণতন্ত্রের। বই পড়ার, তথ্য জানার প্রয়োজনে। যে ব্যবস্থা ভারতবাসী কংগ্রেস ঘরানার রাজনীতিতেই পেয়েছে। তাই কংগ্রেস নামক দলটি নিজের ভাষায় ভারতে আধুনিক গণতন্ত্রের মঞ্চ হয়েই ব্যবহার হবে এমন আশা করা খুব কিছু অন্যায় হবে বলে মনে করি না।                                                      

           

Friday, 28 July 2017

ছন্দপতন

ছন্দপতন: 
গদ্যের ছন্দ থেকে মুক্ত বিহঙ্গ খুঁজে পেতে চায়,
কেউ কেউ হেসে ভেসে থাকে উত্তুঙ্গ মেঘ মল্লারে।
বলা না বলা কথথক সুরের ছন্দ-শৈলী...... 
জানা না জানায় বেসুর হয়ে আসে।
সাদা কবুতর নূপুর পায়ে অচেনা ঠিকানায়
নেচে যায়, ডেকে চলে এক সমুদ্র অহংকারে।
লাল-হলুদ-নীল গোলাপের পাশে......  
সাদা কবুতর হাসতে ভুলে গেছে। ওকে কি
মেঘের নীচে পথ বলে দেবে তোমরা?  
সাদা সাদা পেঁজা মেঘেদের সঙ্গে নূপুর বাজাবে?
শরৎ মেঘের সময় সব ঋতু বয়ে আনতে জানে না।
সাদা মেঘ হারিয়ে যায় অসময়ের অকাল ভৈরবী
প্রভাতি গানে, আজ গঙ্গায় প্লাবন নেই,
সাদা কবুতর নূপুর পায়ে অচেনা ঠিকানায়
এসে খোঁজে, হেমন্তের হিমেল বিকেল।
সাদা শিউলির বরণডালায় টুপ টুপ টুপ
হেমন্ত ভোরের শিশির ভাসে।
কেউ কেউ হেসে ভেসে থাকে উত্তুঙ্গ ঠুমরী গানের
পেয়ালা হাতে, বসন্ত এসে ফিরে গেছে,
বসন্ত ডাকে বারে বারে, ডাকে ‘কুহু কুহু রবে’, সাদা কবুতর বাসা খুঁজে নিতে চায়।    

Wednesday, 19 July 2017

পাশ্চাত্যের আয়না

পাশ্চাত্যের আয়না:

হাজারটা দুয়ার খুলে দিলেও ‘সম্রাট’ কি ফিরবেন?
চাল্লিশ চোরের নতুন গল্প লিখলেও কি ‘আলিবাবা’
বলবেন, ‘আমার বাড়ির দেওয়ালে আচড় কেটোনি!’
দাগ সাদা বা কালো যাই হোক
নজর পড়ুক, দেখা না যাক, প্রাচ্যের শৈশব হারিয়ে
যায়, তৈলাক্ত মরুভূমির শীতল রক্তের ধূসর প্রান্তরে।
কৈশোর খোজে হারিয়ে যাওয়া সময়ের......
শিশির ভেজা পাথরের আপ্যায়ন। 
হাজারটা দুয়ার খুলে দিলেও সম্রাট
কি আবার বলবেন? ‘আমি মুঘল সাম্রাজ্য, মৌর্য সাম্রাজ্য এবং
গৌর বাংলার অদ্বিতীয় গণিতবিদ!
প্রিন্স দ্বারকানাথ গঙ্গাতীরে সপ্তম নৌবহর ভেড়ালেন,
ব্রিটিশ, পর্তুগীজ বণিক ফিরে এলেন, হুতোম লিখতে চাইল।
সতীদাহপ্রথা রদ হয়েছে, বিধবা বিবাহের স্বীকৃতি এল,
স্ত্রী শিক্ষার প্রচলন হয়েছে!  
সধবার দল নগর সন্ন্যাসিনী হয়ে ‘মহানাগরিক’
খুঁজে রাজ্য রাজধানী চিনলেন।
একশত উপাখ্যান লেখা হল.........  
আলিবাবা ফিরলেন না।          
         


Wednesday, 5 July 2017

উপচিত উপঢৌকন সংস্কৃতি খুঁজতে খুঁজতে:

উপচিত উপঢৌকন সংস্কৃতি খুঁজতে খুঁজতে: 

যৌথ সমাজ নামক সোনার পাথর বাটির গল্প বর্তমানে কেউ কি আর বলে? যৌথ পরিবার এখনও কোথাও কোথাও আভিজাত্যের অভিজাত প্রাসাদে ঝাড় বাতির ঝাঁপটায় ঝাঁপতাল বাজাচ্ছে। বলতে চাইছি উল্টোদিকে হাঁটতে চাইলে কেন প্রশ্ন ওঠে? প্রশ্ন তোলার অধিকার তাঁরা পায় কোথায়? ভেলা ভাসিয়ে দিলে ভেলা জানে না কোথায় কোন তীরে গিয়ে ভীড়বে। কয়েকদিন আগে উল্টোরথ ছিল। মাসির বাড়ি থেকে জগন্নাথদেব ফিরলেন নিজের বাড়িতে। সঙ্গে ভাই বলরাম এবং বোন সুভদ্রা। জগন্নাথদেবের এই সময় ভাই ফোঁটা হয় হয়ত। সোজা পথে এসে উল্টো পথে ফেরেন তিনি, সেই কারণেই কি উল্টো রথ? বেশ কয়েক বছর আগে ‘সোশ্যাল মিডিয়া’ নামক যৌথ পরিবার এবং যৌথ সমাজ তথা যৌথ সংস্কৃতির সদস্য হিসাবে প্রশ্ন তুলেছিলাম। বাংলা সাহিত্য, সঙ্গীত সহ সংস্কৃতি ক্ষেত্রে  আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রতিনিধিত্ব করবে কারা? লেখাটি শব্দ এবং ভাষার কোমর নাচানোর চেষ্টা থাকলেও আবেগের আধিক্য কয়েক চামচ বেশি ছিল। আধুনিক পণ্য বাংলা সিনেমা প্রসঙ্গে কিছুদিন আগে বাংলা সিনেমার এক প্রবীণ অভিনেতা কয়েকটি প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি বলেছেন, বাংলা বাণিজ্যিক সিনেমা তথা মূল ধারার সিনেমা আজও পথ হাতরাচ্ছে। খুব খারাপ সময় বাংলা চলচ্চিত্রের। বর্তমান সময়ের দুই জনপ্রিয় প্রথম সারির নায়ক অভিনয়ের সঙ্গে সঙ্গে প্রযোজনায় নেমেছেন। কতদিন? আধুনিক প্রযুক্তি ‘ডাবিং’ নামক চলচ্চিত্রকে যৌথ সমাজে প্রবর্তিত করতে পেরেছে। ফল কি  দাঁড়াল? বাংলার কি লাভ হইল? যদিও কৌশিক গাঙ্গুলী, শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের মতো (আমার সঙ্গে তাদের ব্যক্তিগত পরিচয় নেই। তৈলাক্ত মাথায় বাংলা ব্রান্ডের তেল দিচ্ছি না।) পরিচালক চেষ্টা করছেন পণ্য সংস্কৃতির ভীড়ে বাঙালির মূল্যবোধ, যৌথ পরিবারের স্মৃতি, যৌথ সমাজের বন্ধনের কথা মনে করিয়ে দিতে। অন্য ধারার গল্পকে দর্শকদের সামনে এনে হেচকাটানে আমাদের অন্য ধারার ছবি দেখাতে চাইছেন তাঁরা দুজনে। যে ছবি আজকের বাস্তবতায় খুব বেশি প্রয়োজন। এ ছাড়াও দু’একজন পরিচালক মেধার দৈন্যতায় ‘আঁতেল’- বাঙালিবাবুদের জন্য কিছু সিনেমা করেছেন এবং করছেন। কিছু বেশি রকমের ‘রিমেক’ নয় কি সেগুলি? সেইসব ছবি করতে যে শ্রম, মেধা, অর্থ খরচ হয় সেই যৌথ প্রচেষ্টা গবেষণায় দিলে ছবির ‘কনটেন্ট’ আরও ভালো হতে পারে বলেই মনে হয়। অতপর? হুতোম ফিচেল হেসে কয় বিশ বছর সিনেমা, নাটক না দেইখা, বাংলা ধ্রুপদী বই না পইড়া তর এসব লেখা ক্যান দরকার? হুতোমের সব কথার উত্তর দেওয়ার প্রয়োজন আছে বলে মনে হয় না।  
পণ্য উৎসবের মেজাজে ঝাঁকে ঝাঁকে নতুন উত্তর আধুনিক মেধার অভিনেতা অভিনেত্রীরা এসেছেন। অদৃশ্য অর্থের প্রাচুর্য এইসব নব্য যুবা সম্প্রদায়কে টেনে এনেছে। এদের মধ্যে অবশ্যই অনেকে আছেন যাঁদের যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার কিছু নেই। প্রশ্ন হচ্ছে কোন পরিচালক সৃষ্টিশীল সিনেমার জন্য এদের সুযোগ করে দিতে পারবেন? গল্প কোথায়? চিত্রনাট্য কে লিখবে? নতুন ভাষায়? নতুন আঙ্গিকে? আজকের সিনেমাওয়ালারা উল্টো রথে চড়তে আগ্রহী নন। রথের দিন বা উল্টোরথের দিন জগ্ননাথ দেবের মতো ভাইফোঁটা করতে আগ্রহী নন তাঁরা? তবে আমাদের মত ছিঁচ কাদুনি কাঁদার মতো আম বাঙালি উত্তম-সুচিত্রার স্বর্ণ সময়েও ছিল বর্তমানেও আছে। ২০০২ সালে একটি টিভি চ্যানেলের অফিসে বার কয়েক বাংলা সিনেমার অন্যতম ব্যতিক্রমী অভিনেত্রী মাধবী মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে গল্প করার সুযোগ হয়েছিল। সে সময়েও তিনি বলেছিলেন, ভালো গল্প বলার মতো পরিচালক এসেছেন। ভালো ছবি নতুনদের কেউ কেউ করছেন। কিন্তু ভালো আধুনিক সামাজিক সাহিত্য আমরা পাচ্ছি না। এই কারণে বর্তমানের ভালো পরিচালকরা সাহিত্য নির্ভর গল্প থেকে সিনেমা করতে চাইছেন না। মননশীল চিন্তার দুর্বলতাও আর একটা কারণ হতে পারে। মাধবীদি বলেছিলেন। অদৃশ্য পুঁজির বিনিয়োগের ঢল যত কমে আসবে বাংলা চলচ্চিত্র ততই নিজের শক্ত পায়ে সোজা হয়ে দাঁড়াতে পারবে। দক্ষিণের ছবি যদি রমরমিয়ে চলতে পারে হিন্দি ছবির সঙ্গে তাল রেখে। বাংলা ছবি কেন পারবে না? সমস্যা যেটা থেকে যাচ্ছে বাংলা আধুনিক মননশীল সাহিত্য।
বাংলা সঙ্গীত তবু বলতে হয় তুলনা মূলকভাবে নিজের পায়ে হাঁটতে পারছে। যে সব নতুন সঙ্গীত শিল্পীদের আমরা পাচ্ছি তাঁরা যথেষ্ট চর্চা করে নিজস্বতা গড়ে তুলেছেন। রবীন্দ্রনাথের গানে যেমন সেইসব শিল্পী আলাদা আসন করে নিতে পেরেছেন। লোকসঙ্গীতেও তাঁরা আমাদের কাছে সমানভাবে জনপ্রিয়। সাম্প্রতিক সময়ে বাংলা সঙ্গীতে জয়তি চক্রবর্তী, ইমন চক্রবর্তী আলাদা দাবি নিয়ে বাংলা গানের শ্রোতাদের কাছে এসে হাজির হয়েছেন। তাদের গানের গায়কি এবং আবেদন আমাদের কাছে অন্য মাত্রা পেয়েছে। রবীন্দ্রসঙ্গীতে অগ্নীভ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সুপ্রতীক দাস রবীন্দ্রনাথের গানকে বর্তমান সময়ের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিচ্ছেন তাদের নিজস্ব ঘরানায়। লোকসঙ্গীত শিল্পী অমর পালের সুযোগ্য ছাত্র প্রাণেশ সোমকে পেলাম প্রভাতি গানে এবং লোকগানে। বিশেষত প্রাণেশের গলায় ‘’ভ্রমর কইও গিয়া শ্রীকৃষ্ণ বিহনে অঙ্গ যায় জ্বলিয়া, কইও কইও কইও গিয়া......’’ এই গানটি জয়তি চক্রবর্তীর গলাতে শুনেও আমরা লোকগীতিকে আপন করে নিতে পারি। এই সময়ের একজন জনপ্রিয় লোকগীতি শিল্পীকে আমরা হারালাম। কালীকাপ্রসাদ যে দায়িত্ব নিয়েছিলেন লোকগানে নতুন করে সেই দায়িত্ব কাউকে নিতে হবে।
বাংলা নাটক নিয়েই বরং আমরা গর্বিত। উৎপল দত্ত, অজিতেশ, শম্ভু মিত্র, তৃপ্তি মিত্র, কেয়া চক্রবর্তী, মনোজ মিত্র, বিভাস চক্রবর্তী, শাঁওলী মিত্র, মেঘনাদ ভট্টাচার্য, রুদ্রপ্রসাদ সেনগুপ্ত, সীমা মুখোপাধায়দের পরে নতুন যারা এসেছেন তাদের মধ্যে অন্যতম দেবশঙ্কর হালদার, মনীশ মিত্র, দেবেশ চট্টোপাধ্যায়, অর্পিতা ঘোষ, সোহিনী সেনগুপ্ত সহ একঝাঁক নাট্য ব্যক্তিত্ব এবং নাট্য কর্মী। রাজনৈতিক থিয়েটার আজ থেকে পঞ্চাশ ষাট বছর আগেও ছিল বর্তমানেও আছে। বাংলা নাটকে শুরুর সময়ে রামণারায়ণ-মাইকেল-দীনবন্ধু প্রমূখের নাটকে জমিদার প্রথা তথা সামন্ত ব্যাবস্থার বিরুদ্ধে লেখা বিষয় বস্তু যেমন আমরা পেয়েছি। আবার বিভিন্ন কৃষকের চরিত্রও পেয়েছি। পরবর্তী সময়ে গিরিশ-অমৃতলালের যুগের নাটকে সাম্রাজ্যবাদ বিরোধিতার বিষয়বস্তু আমাদের দেশমাতৃকার আরাধনায় ডেকে নিতে পেরেছে। সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে পেরেছিল ওইসব নাটক। স্বাধীনতার পক্ষে সেই নাটক সামাজিক দায়িত্ব পালন করত। আবার বিষয়বস্তু, আঙ্গিক প্রভৃতি বিষয় বংলা নাটককে সমৃদ্ধ করেছে। প্রগতি ধারার জয়গাঁথা শুনিয়েছে আমাদের। বর্তমান সময়ের প্রেক্ষাপটেও আমরা প্রচুর ভালো নাটক পাচ্ছি। সমীক্ষকরা বলতে পারবেন বাংলা সাহিত্যের তুলনায় নাটকের দর্শক এবং আলোচকের সংখ্যা বেশি কেন?                
গত দু দশকে যে সব নতুন সাহিত্য আমরা পড়েছি সেই সব গল্প উপন্যাস থেকে কোনও একটি স্ত্রী চরিত্র বা নারী চরিত্র কে আলাদা করে চেনা যাবে? যে চরিত্র আজও আমরা মনে রেখে সেই চরিত্রের নামের সঙ্গে পরিবারে কোনও মেয়ের নাম করণ করেছি। যেমনটি সত্যবতী, সুবর্ণলতা, মাধবীলতার নাম আমরা মনে করতে পারি। অথবা আরও আগে বিমলা, চারুলতা, সর্বজায়া, দুর্গার কথা আমরা মনে করতে পারি। একই কথা বলা যায় পুরুষ চরিত্রের ক্ষেত্রেও। শ্রীকান্ত, ইন্দ্র, দেবদাস, গোরা, সন্দীপ, অনিমেষ, অপু, হরিহর, ঢোঁড়াই, করালি ইত্যাদি। এইসব নামগুলি আমাদের বাঙালি তথা ভারতীয় সমাজের পরিবারগুলিতে ছড়িয়ে আছে। আমরা যারা মননশীল সাহিত্যের পাঠক তাঁরা মিথ হয়ে যাওয়া সেইসব চরিত্রগুলির নাম মনে রেখেছি। সাহিত্যের আড্ডায় ওইসব নাম ঘুরে ফিরে আসে। বছর খানেক আগে আমার সঙ্গে সদ্য পরিচিত একটি তরুণের নাম শুনে জানতে চেয়েছিলাম বাড়িতে কে সাহিত্য পড়ে? সে বলেছিল আমার বাবা। সেই তরুণটির নাম শাম্ব। শাম্ব একটি তথ্য প্রযুক্তি সংস্থার উচ্চপদস্থ কর্মী। ব্যঙ্গালোরে আছেন। তার কথায়, ‘আমার বাবা সমরেশ বসু মানে কালকূটের ‘শাম্ব’ পড়েই আমার নাম রেখেছিলেন।’
গোয়েন্দা উপন্যাসেও সেই ‘ব্যোমকেশ’-এর সময় ধরে কিরীটি, অজিত, দীপক, ফেলুদা হয়ে নতুন চরিত্র আর কোথায়? সুনীল- শীর্ষেন্দু তাদেরমতো করে চেষ্টা করেছেন। ঘনাদা, টেনিদার মতো জনপ্রিয় চরিত্র বাংলার পাঠক আর খুঁজে না পাওয়ার কারণ কি?    
প্রথমত সাহিত্যের ফর্ম নিয়ে ‘সবুজ পত্র’-এর সময় থেকেই বিভিন্ন আলোচনা আমরা শুনি। সে প্রমথ চৌধুরী হোক অথবা ‘কবিতা’ পত্রিকার বুদ্ধদেব বসু। এবং ‘শনিবারের চিঠি’ এর সজনীকান্ত দাস। শিল্প সাহিত্যের ভাষা যতই উন্নত, ভাবগর্ভ, ব্যঞ্জনাময়, অপ্রয়োজনীয় অলঙ্কারযুক্ত হোক আপত্তি কেউ করবে বলে মনে হয় না। সে সব শিল্প নৈপুণ্যে উচ্চস্তরের হলেও বিষয়বস্তু যদি দুর্বল হয়? তাতেও সমাজের বা সাহিত্যের কিছু এসে যাবে না। সব কিছুর উর্ধে বিষয়বস্তুটাকে সম সাময়িক হতে হবে। বিষয় বস্তুর মধ্যে সূক্ষমতা থাকতে হবে, জটিলতা থাকতে হবে, টান টান উত্তেজনা, ব্যতিক্রমী ঋজু চরিত্র গড়ে না উঠলে সেই সাহিত্য কালোত্তীর্ণ হতে পারে না। সেই সাহিত্যসৃষ্ট চরিত্রগুলিও বাদাবনে হারিয়ে যেতে বাধ্য। বাজার চলতি বাণিজ্যিক পত্রিকাগুলিই আমাদের কালজয়ী সৃষ্টিশীল উপন্যাস দিয়েছে। চার পাঁচ বছর আগে একটি বহুল প্রচলিত এবং বাংলা প্রকাশনার অন্যতম সংস্থার পাক্ষিক পত্রিকার ‘শারদীয়’ সংখ্যায় নারীপাচার বিষয়কে কেন্দ্র করে একটি উপন্যাস লেখা হয়েছিল। অত্যন্ত উল্লেখযোগ্য লেখা। লেখক এবং উপন্যাসের নাম আজ আর আমার মনে নেই।                                              
‘বিবর’, ‘রাতভোর বৃষ্টি’-এর সময় পেরিয়ে বাংলা সাহিত্য পণ্য হলেও পণ্য সাহিত্যের পাঠক বর্তমানে কতজন? আমরা পণ্য সাহিত্য পড়ব? না পর্ণ মুভি দেখব? ‘সোশ্যাল মিডিয়া’-এর সৌজন্যে বাংলা সহ সব ভাষার ছবি আরও সহজলভ্য হয়েছে। হাতে একটি স্মার্টফোন থাকলেই হল। সাহিত্যের অশ্লীলতা নিয়ে তাবড় তাবড় ব্যক্তি বিভিন সময়ে লিখে গেছেন। কিছুদিন আগে উর্দু সাহিত্যের বিখ্যাত লেখক সাদাত হোসেন মানটোর একটি বাংলা অনুবাদ লেখা পড়ছিলাম পুরনো একটি পত্রিকায়। লেখাটির অনুবাদ করেছেন জাফর আলম। মানটো সাহেব লিখছেন,
‘’আজকের নূতন সমস্যা অতীতের পুরাতন সমস্যার মধ্যে মূলত বিশেষ তারতম্য নেই। আজকের দুষ্কর্মের বীজ হয়তো অতীতেই বপন করা হয়েছে। যৌন-সমস্যা যেমন আধুনিক লেখকের সম্মুখে রয়েছে তেমনি অতীতেও প্রাচীন লেখকদের কাছে একই সমস্যা বিদ্যমান ছিল। অতীতে লেখকরা প্রাচীন নীতিতে এই সমস্যাকে তুলে ধরেছেন, আমরা একে নিজস্ব ঢং-এ লিপিবদ্ধ করছি।
আমি জানি না আমাকে কেন বার বার যৌন সমস্যা সম্পর্কে প্রশ্ন করা হয়। কারণ লোকেরা আমাকে প্রগতিবাদী লেখক নামে আখ্যায়িত করেছে, কারণ আমার কয়েকটি গল্প যৌন সমস্যা নিয়ে লিখিত। নতুবা কেন জানিনা আজকের তরুণ লেখকদেরকে কিছু সংখ্যক লোক ‘’যৌন বিকারগ্রস্ত’’ বলে সাহিত্য ধর্ম ও সমাজ থেকে কলমের খোঁচায় বহিস্কার করতে চান। কারণ যাই হোক না কেন, আমি আমার দৃষ্টিভঙ্গি ও মনোভাব ব্যাখ্যা করছি। রুটি আর পেট, নারী ও পুরুষের সম্পর্ক সনাতন ও চিরস্থায়ী। রুটি ও পেটের মধ্যে কোনটি বেশী গুরুত্বপূর্ণ এবং নারী-পুরুষের মধ্যেকার প্রয়োজনীয়তা কার বেশী তা বলা মুশকিল। কারণ আমার ক্ষুধার্ত পেট রুটি চায়। কিন্তু পেটের ন্যায় গমও আমার পেটের জন্য লালায়িত কিনা জানি না। তবে যখন ভাবি, জমিতে গম বেকার উৎপন্ন হয়নি বরং আমার উদর পূর্তির জন্য বিস্তৃত মাঠে এই সোনালী গমের চাষ করা হয়েছে তখন বেশ আনন্দ পাই। হয়তো আমার উদর প্রথমে সৃষ্টি হয়েছে আর গমের বীজ পরে।‘’
শ্রদ্ধেয় সাদাত হোসেন মানটোরমতো লেখক এই সময়ে উর্দু সাহিত্য কেন প্রায় যে কোনও ভাষায় পাওয়াটা বিরল। তারমতো উন্নত চিন্তার মননশীল লেখক উর্দু সাহিত্যকে মর্যাদার আসন দিয়ে গেছে। নিপীড়িত মানুষের কথা মনটো সাহেবের মরমী কলমে ক্ষুরধার ভাষায় উঠে এসেছে। যে সব জীবন গাঁথা তিনি আমাদের জন্য রেখে গেছেন আজ সেসব ধ্রুপদী সাহিত্য হয়ে আছে। তার সঙ্গে সমকালের লেখকদের এক আসনে বসানো যাবে না।   
বর্তমান সময়ে এই বাংলায় দু’একজন লেখক কতটা সাহিত্য ধর্মে দীক্ষিত সেটা পরবর্তী সময় বলবে। তাদের লেখা এবং তাদের গল্প উপন্যাস সম্পর্কে সমালোচকরা লিখছেন, কোনও জাতক যদি বাজারি পণ্য সংস্কৃতিকে ‘পর্ণ’ সাহিত্যের আঙ্গিকে ভাষা দিতে চায় আমাদের আপত্তি করার কি আছে? নিশ্ছিদ্র আর্থিক এবং সামাজিক নিরাপত্তায় পণ্য হোক বা পর্ণ হোক সেইসব লেখকের কাছে পাঠক অস্থায়ি বিনোদন পাচ্ছে। যে সংস্থা ওইসব লেখকদের সম্মানিত করে বাজারে পৌঁছে দিচ্ছে সেই সংস্থার ব্যবসা হওয়া নিয়ে দরকার। প্রকাশনা সংস্থার সাহিত্যের জাতকদের তীর্থঙ্কর ভাষায় দীক্ষা থাকতে হবে এমন বাধ্য বাধকতার কি আছে? পণ্য তারকারও প্রয়োজন। পর্ণ তারকাদের জন্য বাজার খোলা থাকে। ধ্রুপদী সাহিত্যের ভাষা, চরিত্র, সময়কাল যুগ পরম্পরায় পাঠকমণ্ডলীকে এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে নিয়ে যায়। সত্যকে আরও চিরসত্য করে রেখে যায় ধ্রুপদী সাহিত্যের চরিত্ররা। প্রকৃতি আসে কবিতার শব্দের মতো উপন্যাস নির্মাণের সহায়ক ভাষা হিসাবে।
বাংলা সাহিত্য আলোচনায় যে নামগুলি চিরন্তন হয়ে আছে তারমধ্যে অন্যতম বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়। লেখকের সর্বকালের পাঠকের জন্য শ্রেষ্ঠ উপন্যাস ‘পথের পাঁচালী’। এই উপন্যাস সম্পর্কে আলোচনায় সরোজ বন্দ্যোপাধ্যায় একটি প্রবন্ধে লিখছেন, ‘’.........‘পথের পাঁচালী’ উপন্যাসের প্রথম বিস্ময়কর দুঃসাহস এর প্রকৃতিপট নির্মাণে নয়। প্রকৃতিপট নির্মাণে তিনি রবীন্দ্রনাথকে অতিক্রম করেননি— করার চেষ্টাও করেননি। তিনি শুধু তীক্ষ পর্যবেক্ষণে অধিকতর সানুপুঙ্খ হয়েছেন। তা নইলে ‘ছিন্নপত্রাবলী’-র চিঠিতে রবীন্দ্রনাথ যেমন প্রকৃতির সঙ্গে তার অস্তিত্বের সজীব সম্পর্কের কথা বলেন, প্রকৃতির যে টান তিনি তার রক্তধারায় অনুভব করেছেন, হাডসন সম্বন্ধে যে কথা উনিশশো ষোল সালে গলসওয়ারদি বলেছেন— তা এখানে স্মরণীয়। Hampshire Days থেকে গলসওয়ারদি উদধৃত করেছেন এই অংশ— ‘The blue sky, the brown soil beneath, the grass, the trees, the animals, the wind and rain, the stars are never strange to me; for I am in and am one with them; and my flesh and the soil are one, and the heat in my blood and in the sunshine are one, and the winds, and the tempests and my passions are one.’  আমরা মিলিয়ে নিতে চাইব না, কিন্তু মনে করতে পারি ‘ঊর্মিমুখর’-এর এই অংশঃ ‘আজ রবিবার দিনটা দুপুরে একটু ঘুমিয়ে উঠেচি- কি পরিপূর্ণ ঝলমলে শরতের দুপুর। এর সঙ্গে জীবনের কি যে একটা বড় যোগ আছে— ভাদ্র মাসের এই রোদভরা দুপুরে কেন যে আমায় পাগল করে তোলে। বনে বনে মটর লতার কথা মনে পড়ে, ইছামতীর ঘোলা জল, পাখীর ডাক— মনটা যেন কোথায় টেনে নিয়ে যায়। ‘’পথের পাঁচালী’’ কিন্তু এসবের জন্য বিশিষ্টমাত্র একথা বললে সবটা বলা হল না । ‘’পথের পাচালী’’-র একমাত্রতা এবং অনন্যতা তার কেন্দ্রীয় চরিত্র নির্বাচনে।’.........’’
এই লেখার যখন পরিকল্পনা করি তখন আমার কাছে একটি খবর আসে। এই বছর আমেরিকায় বঙ্গ সম্মেলন হবে ৭-৯ জুলাই। নর্থ আমেরিকান বেঙ্গলি কনফারেন্স (এনএবিসি)-এর উদ্যোগে এবছর ৩৭তম বঙ্গ সম্মেলন। আমেরিকার সান ফ্রান্সিসকো শহরে সান্টা ক্লারায় হবে এবছরের সম্মেলন। একটি বাংলা দৈনিকের উদ্যোগে দু’ই বাংলার বিভিন্ন ক্ষেত্রের পাঁচজন সেরা বাঙালিকে এবার বেছে নেওয়া হয়েছে ‘সেরা বাঙালি’ হিসাবে। তাদের সম্মানিত করা হবে এবারের প্রবাসী বাঙালিদের পীঠস্থান আমেরিকায়। এর থেকে গর্ব আর কিছু হয় না। যে পাঁচজনকে বেঁছে নেওয়া হয়েছে তাঁরা প্রত্যেকেই নিজ নিজ ক্ষেত্রে এক একজন নক্ষত্র। নামগুলি আশা করি ইতিমধ্যে বিশ্বের আপামর বাঙালি স্বজনেরা জেনে গেছেন। আত্মার আত্মীয়তার অনুভবে।
কলকাতা থেকে প্রকাশিত একটি বহুল প্রচারিত দৈনিক পত্রিকার ৫ জুলাই, ২০১৭ সংখ্যায় একটি খবর পড়লাম। মার্কিন মুলুকের ১৪ জন শিক্ষক আসছেন কলকাতার যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে। পড়াতে নয়। পড়তে আসছেন নিউ ইয়র্ক শহরের বিভিন্ন স্কুল থেকে ওই ১৪ জন শিক্ষক। তাঁরা আসছেন বাংলা ভাষা শিখতে। বাংলা সংস্কৃতি জানতে আসছেন। ফিরে গিয়ে তাঁরা আমেরিকার অভিজাত শহর নিউ ইয়র্কের প্রবাসী অভিজাত ভারতীয় তথা বাঙালিদের সাহায্য করতে পারবেন। এমনটাই খবরে প্রকাশ। নিউ ইয়র্ক শহরের ১৪ জন শিক্ষক আসছেন এই বাংলায়। বাংলা ভাষা এবং বাঙালি সংস্কৃতির ছাত্র হয়ে। আমি প্রশ্ন তুলতে চাইছি বিশ্বের অভিজাত দেশ, সুশিক্ষিত দেশ, মেধা চর্চার দেশ, উন্নত বিঞ্জানের দেশ, উন্নত প্রযুক্তির দেশ, মিশ্র সংস্কৃতির দেশ, উন্নত গণতন্ত্রের দেশ আমেরিকা। জ্ঞান চর্চার অন্যতম পীঠস্থান সেই আমেরিকার অভিজাত শিক্ষাবিদেরা এদিন পর্যন্ত এই বাংলার বাঙালিদের নিয়ে এত উদাসীন ছিলেন কেন? এই বাংলার বাঙালি দেশ স্বাধীন হওয়ার আগে থেকে  ইউরোপ আমেরিকার সহ বিভিন্ন দেশের ঞ্জান আহরণ করেছে। সভ্যতার আধুনিকতম মেধা প্রবাসী আমেরিকান বাঙালিরা আমাদের পৌঁছে দিয়েছেন। কিন্তু আমেরিকার সাহিত্য আমরা বাঙালিরা কতটা চিনি? আমেরিকার ধ্রুপদী সাহিত্য আমরা বাংলা ভাষায় কতটা অনুবাদ সাহিত্যে পেয়েছি? এই দায়িত্ব কোন দেশ বা কারা নেবে? এবছরের বঙ্গ সম্মেলনে কেউ কি থাকবেন এই প্রশ্ন তোলার জন্য? অথবা গর্বিত বাঙালি উল্লেখিত বিষয়ে ধ্রুপদী ঘরানায় এবং ঐতিহাসিক ভাবনায় তার্কিক মেজাজে একটা সেমিনার করবেন কি তিনদিনের অভিজাত সম্মেলনে?                  
 

অপরাহ্ণ বেলায়

অপরাহ্ণ বেলায়: 

সহাস্য আগুনে হাত দিলে শিশু প্রথম
চেনে-জানে আগুন দেহের তাপ উত্তাপ।
যুগান্তের দিগন্তে প্রচলিত সামাজিকতায়—
ছাই হয়ে যাওয়া নিভন্ত চুল্লি আছে—
কয়েকশত যোজন হেঁটেও
শ্রীকান্ত পৌঁছে যায় রাধাচূড়ার পড়ন্ত বিকেলে।
‘রিনা ব্রাউন’-এর ঝাপসা শহর থেকে দূরে.........
ভ্রমরের ‘বঁ’ ‘বঁ’ ‘বঁ’ শব্দে গ্রাম জীবনের
রাখাল বালকের উচ্ছলতা? তিরপিতা, ব্রহ্মাণী, ময়ুরাক্ষী
অজয়ের ঢেউয়ের কথাব্রত কোন অজান্তে হারিয়ে যায়...
শহর উপকণ্ঠের ‘চূনীবাবু’-দের জলসায় ঘুরে ঘুরে।
বিশ্ব অয়নের ভাষা ছিনিয়ে নিতে চায়
শ্রীকান্তের শরৎ জ্যোৎস্না.........
প্রৌঢ় পথিকের গ্রন্তিত সঞ্চায়নে
অপরাহ্ণ বেলায়, ফুল মেলার
হোলি শেষে, হেঁটে চল, হেঁটে যাও......
হাঁটতে দাও শিশুর হাতের নরম স্পর্শে
উচ্চ-নীচ সব প্রাঞ্জনে।
অনিমেষ আজও অপেক্ষায় থাকে,  
সামাজিক সামিয়ানার নীচে ‘উত্তরাধিকার’
আসবে কোনও একদিন.........
‘সত্যবতী’, ‘সুবর্ণলতা’, মাধবীলতা -‘ন হন্যতে’  
ভাষার প্রাপ্ত স্বাধীনতায়।